মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চে নতুন নেতৃত্ব, আত্মগোপনে সভাপতি, গ্রেপ্তার সম্পাদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার অভিযোগে নানা সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে থাকা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। আত্মগোপনে থাকা একাংশের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নতুন কমিটি গঠনের এই তথ্য বুধবার ফেসবুকে জানিয়েছেন।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এস এম জাকারিয়া ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন ইফতেখার আলম রিশাদ।

ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া ইফতেখার আলম রিশাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আমাদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের (আমিনুল-মামুন) নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা দেওয়া হয়েছে। ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে তারা অংশ নিতে পারছেন না। এমতাবস্থায় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে আমাদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেন। পরে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় আলোচনা করে দায়িত্ব গ্রহণ করি।’

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সম্পূর্ণ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ মানুষের জন্য কাজ করাই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু আমাদের নামে অপপ্রচার করে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে প্রমাণের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এটি খুবই দুঃখজনক।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম জাকারিয়া ইসলামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানায়। তিনি মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে অনার্স শেষ করেছেন। আর সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায়। তিনি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষভাবে নেওয়া পরীক্ষার মাধ্যমে অনার্স শেষ করেছেন।

গত ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনে ভিপি নুরসহ তার অনুসারীদের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠে। হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে বেশকিছু সংগঠন। সরকারের পক্ষ থেকেও দোষীদের বিচারের আশ্বাস দেয়া হয়। হামলার ঘটনার পর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামে দুইটি সংগঠনের অস্তিত্ব রয়েছে। চলতি বছরে এই মঞ্চে ভাঙন হয়েছে, দুটি পক্ষ একে অপরকে বহিষ্কার করেছে, মধুর ক্যানটিনে ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে, ভিপি নুরুলের ওপর একাধিক বার হামলা করেছে। একটি অংশ ছাত্রলীগ থেকে পদচ্যুত নেতা গোলাম রাব্বানীর পক্ষে অবস্থানও নেয়।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের সংগঠনটি নিবন্ধিত নয়। ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর এই সংগঠনটি গঠন করা হয়। কোটা বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারি হলে শাহবাগে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন।

এই আন্দোলনের মধ্যেই তারা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামে সংগঠনটি গঠন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে সংগঠনটির আহ্বায়ক এবং সাবেক সড়ক ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খানকে সদস্যসচিব করা হয়। চলতি বছর মার্চে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদবঞ্চিত নেতা আমিনুল ইসলামকে সভাপতি ও আল মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গঠন করেন জামাল উদ্দিন।

চলতি বছরের ১০ অক্টোবর গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও আল আমিনকে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেন মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র জামাল উদ্দিন। এই ঘটনার পর জামাল উদ্দিন ও আসিফ ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চে’র কেউ নন বলে দাবি করে বক্তব্য দেন আমিনুল ও আল মামুন এবং নিজেদের প্রকৃত ‘সংগঠন’ বলে দাবি করতে থাকেন।

গত রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চে’র ব্যানারে যে মিছিলটি হয় এবং মিছিল শেষে ভিপি নুরুলসহ অন্যদের ওপর হামলা চালায় সেই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও আল মামুনের সমর্থক অংশটি।

এই অংশটিকে দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ হারানো গোলাম রাব্বানী মদদ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী বলছেন, তিনি কোনো সংগঠনের সঙ্গে নেই। ডাকসুর নির্বাচিত জিএস তিনি।

ভিপি নুর ও তার সহযোগীদের ওপর ওই হামলার পর আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, মামলার আসামি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আত্মগোপনে রয়েছেন; এবং আত্মগোপনে থেকে একাংশের এই নতুন কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close