কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘বিজয়ের বইমেলা’য় পোশাকের স্টল !

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলছে সপ্তাহব্যাপী ‘বিজয়ের বইমেলা’। বাংলার মুখ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে গত ৮ ডিসেম্বর এই মেলা শুরু হয়। আজ (শনিবার) মেলা শেষ হওয়ার কথা।

এই বইমেলায় শীতের পোশাকের একটি স্টল নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়ে হয়েছে। শহীদ মিনারে বিজয়ের বইমেলা নামে আয়োজনে পোশাক বিক্রির সমালোচনা করে অনেকেই শহীদ মিনার ব্যবহারে একটি নীতিমালা তৈরির দাবি জানিয়েছেন।শনিবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আলোকচিত্র সাংবাদিক ইউসুফ আলী শহীদ মিনারে স্যুট বিক্রির স্টলের একটি ছবি ফেসবুকে দেওয়ার পর এনিয়ে সমালোচনা দেখা দেয়।

শনিবার বিকেলে শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, বইমেলার প্রথম দুটি স্টলজুড়েই স্যুট-কটির পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
ইউসুফ আলীর তোলা ছবি যুক্ত করে ফেসবুকে নাট্যকর্মী হুমায়ুন কবির জুয়েল লিখেন- আর বোধহয় দেরি করা ঠিক হবে না। রুখতে না পারলে ভুগতে হবে। এখানে ব্যান্ডসংগীত, ইংরেজি-হিন্দি গান, ইফতার, দোয়া কত কিছু হয়েছে। আজ ষোলকলা পূর্ণ করলো এই বস্ত্র ব্যবসা। আগামীতে বত্রিশ কলা পূর্ণ করবে, ফলমূল, তরকারি, পিঁয়াজ, আসবাবপত্রসহ যাপিত জীবনের প্রয়োজনীয় এবং বিলাসী পণ্যের হরেক রকম মেলা।

এমনকি রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য শহীদ মিনারের জায়গা সংকুচিত করাও ভালো বার্তা দেয় না। পৃথিবীতে অনেক স্থাপনার কোন রূপ পরিবর্তন, সংকোচন না করেও উন্নয়ন সাধনের অসংখ্য নজির রয়েছে। প্রয়োজন কেবল ধারণ করার মানসিকতা।আরেক নাট্যকর্মী দেবজ্যোতি দেবু এ ব্যাপারে ফেসবুকে লিখেন- শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কাপড়ের দোকান! তাও আবার বইমেলায়! আয়োজক সুশীলগণের নাকের ডগায় ঝুলছে কাপড় আর নামে দিয়েছেন ‘বইমেলা’!

দেবজ্যোতি দেবু’র স্ট্যাটাসে পরিবেশকর্মী আব্দুল করিম কিম মন্তব্য করেছেন- বইমেলা নাম দিয়ে ব্লেজার বিক্রির দোকান দেখে অবাক হয়েছি। এই মেলার আয়োজকদের অন্যতম এনামুল মুনীর ভাই। উনি শহীদ মিনার বাস্তবায়ন পরিষদের একজন সদস্য। তাই উনার আয়োজনের বইমেলা যদি ব্লেজার বিক্রির স্টল থাকে তবে তা লজ্জাজনক। আমি এনাম ভাইয়ের বক্তব্য জানতে চাইছি। যদিও এখানে বক্তব্য দিয়ে এর পক্ষে সাফাই দেয়ার কিছু নেই।

আর সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু লিখেছেন- আমরা শহীদ মিনার বাস্তবায়ন পরিষদকে সববিষয়ে অবগত করেছি আশাকরি বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর ভাই ও শওকত ভাই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।এ ব্যাপারে বইমেলার আয়োজক সংগঠন বাংলার মুখ’র মুখ্য নির্বাহী এনামুল মুনীরের সাথে শনিবার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তিনি মেলা শেষ হওয়ার আগে এ নিয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ভবতোষ রায় বর্মণ রানা সমকালকে বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বই মেলায় কাপড়ের দোকান এটি মেনে নেওয়া যায় না। আজ কাপড়ের ব্যবসা কাল দেখা যাবে কেউ আরো অন্য কিছু করছে। এটি বন্ধ করতেই হবে। একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালায় আনতে হবে শহীদ মিনার ব্যবহারকারীদের।

Sharing is caring!

Loading...
Open