ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে ট্রাফিক পুলিশের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি

ছাতক প্রতিনিধি :: সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ অংশে চলাচলকারী যানবাহন চালকদের কাছে ট্রাফিক পুলিশের প্রকাশ্রে চাঁদাবাজি এখন বড় আতষ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৬৮ কিলোমিটার সড়কের অন্তত ৩টি স্পটে ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা।

মালিক ও চালকদের কাছ থেকে মাসিক চুক্তিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে সড়কের নিরাপত্তায় থাকা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট স্পট ঘুরে ও গাড়ী চালকদরে সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্পটে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পণ্যবাহী যানবাহন থেকে টাকা আদায় করে পুলিশ। অধিকাংশ সময় ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই নুরে আলমের নেতৃত্বে এটিএসআই ফেরদৈস, খলিল, পানেশ ও রহিম এ চাঁদা আদায় করে থাকেন। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রাক হতে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। বিশেষ করে দূরপাল্লার পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজির প্রধান টার্গেট।

জানা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের এই অংশে প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ পন্যবাহী যানবাহন যাতায়ত করে থাকে। যার প্রতিটিকেই দৈনিক বা মাসিক চুক্তির আওতায় ট্রাফিক পুলিশকে টাকা দিতে হয়। সম্প্রতি গোবিনদগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারনে অতিষ্ট হয়ে এটিএসআই কামরুল অন্যত্র বদলি হয়েছেন। তার সাথে মোঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ স্পটে প্রতিদিন ৭০০০ থেকে ৮০০০ হাজার টাকার চাঁদা আদায় করে ট্রাফিক পুলিশ। বর্তমানে বাসায় বসে আদায়কৃত চাঁদার অর্ধেক একাই নেন টিএসআই নুরে আলম। আর অর্ধেক ভাগ করে নিচ্ছেন এটিএসআই ফেরদৌস, খলিল, পানেশ ও রহিম। এ ছাড়া ফিটনেসহিীন যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি ও বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ী আটক করা হচ্ছেনা। অভিযোগ রয়েছে এসব ফিটনেসবিহীন সিএনজি, বাস ও কোম্পানির গাড়ী চালক ও মালিকদরে নিকট থেকে লক্ষাধিক টাকা মাসোরা নিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। এই টাকা উত্তোলন করছেন কন্সস্টেবল মুজিবুর। আর এ মাসোরা জোরেই রাস্তায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ হচ্ছে না।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই ফেরদৌস চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, হতে পারে ট্রাক চালকের নিকট থেকে কাগজ পত্র নিচ্ছিলাম।

টিএসআই নুরে আলম প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা আমার কথা মানছেনা। তারা নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে গেছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open