স্ত্রী-পুত্রের মত চিকিৎসা গবেষণায় ড.অজয় রায়ের মরদেহ

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদক পাওয়া শিক্ষাবিদ ড. অজয় রায়ের মরদেহ দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার্থে দেওয়া হবে।অজয় রায় তার দেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণার জন্য দান করে গেছেন বলে জানিয়েছেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। অজয় রায় ছিলেন নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

এরআগে অজয় রায়ের স্ত্রী শেফালি রায় এবছরের ৩ জানুয়ারি মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে দান করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে অজয়-শেফালি দম্পতির সন্তান ব্লগার, বিজ্ঞানী অভিজিৎ রায়ের মরদেহ চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দান করা হয়েছিল।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজয় রায় মৃত্যুবরণ করেন। শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা অজয় রায়ের বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ফুসফুসের সংক্রমণের পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি ভুগছিলেন। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ২৫ নভেম্বর থেকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন অধ্যাপক অজয় রায়। ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ট বাড়লে দুইদিন পর থেকে তাকে কৃত্রিম শ্বাস দেওয়া হচ্ছিল।

অজয় রায়ের ছোট ছেলে অনুজিৎ রায় জানান রাতে তার বাবা কফিন রাখা হবে বারডেমের হিমঘরে। মঙ্গলবার সকালে শেষবারের মত তাকে নেওয়া হবে বেইলি রোডের বাসায়। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বেলা ১১টা থেকে এক ঘণ্টা অজয় রায়ের কফিন রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। পরে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ বারডেম কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান অনুজিৎ।

১৯৩৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা অজয় রায়ের শিক্ষকতার শুরু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে। ১৯৫৯ সালে তিনি যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে। ২০০০ সালে অবসরের পরও ইউজিসি অধ্যাপক ছিলেন তিনি।ষাটের দশকের শেষে ইউনেসকোর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত ক্রিস্টালোগ্রাফি সেন্টার স্থাপনে অজয় রায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। পদার্থবিদ্যায় তার দুটি গবেষণা নোবেল কমিটিতেও আলোচিত হয়।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় অজয় রায় একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেন। কুমিল্লার সোনামুড়া সীমান্তে প্রশিক্ষণ শেষে একাধিক অপারেশনে যোগ দেন তিনি। পরে মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা সেলের সাম্মানিক সদস্য হিসবে দায়িত্ব পালন করেন।

একাত্তরের মে মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেন এবং শিক্ষকদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করতে ভূমিকা রাখেন।স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন অজয় রায়। এছাড়া সম্প্রীতি মঞ্চের সভাপতি, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close