বিশ্বনাথবাসীর ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত!

শনিবার রাত সাড়ে ১০টা। হঠাৎ খবর আসে প্রবাসী অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও ছাতক এবং সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর সীমান্ত দিয়ে বিশ্বনাথে ডাকাত ঢুকেছে। খবরটি সরাসরি বিশ্বনাথ থানা পুলিশের হওয়ায় উপজেলার সচেতন নাগরিকরা এ বিষয়টি আমলে নেন। আর স্থানীয় সাংবাদিক, সচেতন মহল ও গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষও নিজ নিজ ফেসবুক’র টাইমলাইনে শেয়ার করেন।

মুহূর্তের মধ্যেই উপজেলায় ডাকাত প্রবেশের বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ডাকাত প্রবেশের বিষয়টি উপজেলার ৪৩৪টি গ্রামের মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়। এসময় বিশ্বনাথ থানা পুলিশের বরাত দিয়ে সোশাল মিডিয়া ফেসবুকেও বলা হয় ‘মকরম’ ডাকাত তার দলবল নিয়ে বিশ্বনাথে প্রবেশ করেছে। যেকোনো সময় যেকোনো বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটতে পারে। আর এজন্য সকলকে সজাগ দৃষ্টি রেখে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। ফলে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত উপজেলাবাসী নির্ঘুম রাত কাটালেও ডাকাত প্রবেশের বিষয়টি সত্যি না গুজব- এমন প্রশ্নই এখন মানুষের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

একইভাবে রোববার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায়ও উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন মোবাইল ফোনে অনেকেই জানতে চান, আজও কি বিশ্বনাথে ডাকাত হানা দেবে! এরআগে ২০১৬ সালেও একইভাবে হঠাৎ ডাকাত আতঙ্কে উপজেলা জুড়ে পাহারা দেওয়া হয়।

রোববার রাত ৮টার দিকে মোবাইল ফোনে কথা হয় উপজেলার জগৎপুর গ্রামের মধু মিয়া, মাইঝ গ্রামের আহমেদ ওমি, সৈয়দপুর সদুরগাঁওয়ের রুয়েল আহমদ মিঠু, মৌজপুরের আব্দুর রউফ, কালিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী শাহজাহান আহমদের সঙ্গে। তারা বলেন, শনিবার রাতে ডাকাত আতঙ্কে তারা ঘুমাননি। আর আজ রোববার এ ধরনের কোন সংবাদ আছে কিনা জানতে উপজেলা সদরের বসবাসকারী তাদের পরিচিত সাংবাদিক পরিচিত ব্যবসায়ী কিংবা আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন।

তবে, আজ ডাকাত হানা দেওয়ার কোন খবর পাননি বলে জানিয়েছেন বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম মুসা।

তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি উপজেলাবাসী সতর্ক থাকায় কোথাও ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। শনিবার রাতে গোপন সংবাদে খবর পাওয়ায় তিনি সচেতন মহলের প্রতি আহবান জানিয়ে ছিলেন পুলিশকে সহযোগিতা করার। ফলে সচেতন মহলসহ সাধারণ জনগণও বিভিন্নভাবে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন। তবে তিনি বিশ্বনাথবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন, চোর-ডাকাত এড়াতে তারা যেন তাদের বাসা-বাড়ির গেটের তালায় একটি বক্স লাগিয়ে দেন। যাতে করে চোর-ডাকাত সহজে বাসা-বাড়িতে না ঢুকতে পারে।

Sharing is caring!

Loading...
Open