ইলিয়াস কাঞ্চন কোথা থেকে কত টাকা পান? আমি জনসম্মুখে তুলে ধরবো,শাজাহান খান

সম্প্রতি নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দানকারী নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে ‘জ্ঞানপাপী’ আখ্যা দিয়ে সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেছেন, ‘আপনি (ইলিয়াস কাঞ্চন) যে বিদেশীদের কাছ থেকে নিরাপদ সড়ক চাই এনজিওর নামে কোটি কোটি টাকা নিয়ে আসছেন, আপনি কয়টি প্রতিষ্ঠান করেছেন, কয়টি স্কুল করেছেন, কজন মানুষকে ট্রেনিং দিয়েছেন- আমি তার তথ্য বের করতেছি।’

রবিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল ১৩ নং সেক্টর এলাকায় ঢাকা জেলা বাস মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজনে ডাইভার্স ট্রেনিং সেন্টার (ডিটিসি)’র এ কোর্সের উদ্বোধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইলিয়াস কাঞ্চনের আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিবহন শ্রমিকদের এই নেতা বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন কোথা থেকে কত টাকা পান? কী উদ্দেশ্যে পান? সেখান থেকে কত টাকা নিজে নেন, পুত্রের নামে নেন, পুত্রবধূর নামে লাখ লাখ টাকা নেন- সেই হিসাব আমি জনসম্মুখে তুলে ধরবো।

তিনি বলেন, ‘আমরা তলে হাত দিয়ে দেখতে পারি আপনার ওজনটা কোথায়। একটু তলে হাত দিয়ে দেখেন সমস্যটা কোথায়, সমস্য ড্রাইভার না, সমস্যা আমাদের শ্রমিক না, মূল সমস্য বিআরটিএ। যতক্ষণ পর্যন্ত বিআরটিএর সক্ষমতা না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত সড়কে পূর্ণাঙ্গ শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না।

সংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেন, ‘সড়ক নিরাপদ করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তবে তা হতে হবে বাস্তবমুখী।’ তিনি সম্প্রতি কার্যকর হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের পরিবর্তন দাবি করে বলেন, ‘বর্তমান আইনের পরিবর্তন প্রয়োজন রয়েছে। যা চালকদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে হতে হবে। একটি পক্ষ এক তরফা ভাবে চালকদের শাস্তির দাবি করে আসছে। কিন্তু অন্য যারা জড়িত ওই বিভাগকে আড়াল করে চলেছে।

তিনি বলেন সড়ক নিরাপদ করতে হলে প্রয়োজন সড়কের আধুনিকায়ন ও সংস্কার, প্রকৌশল ত্রুটি রোধ, পথচারী, যাত্রী পুলিশসহ সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

জাল লাইসেন্সধারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন তবে যারা এই লাইসেন্স প্রদানের সাথে জড়িত বিআরটিএ-র জনবল বৃদ্ধি করতে হবে। যাতে লাইসেন্সের জন্য গিয়ে চালকদের ভোগান্তি পোহাতে না হয়।

ড্রাইভার্স ট্রেনিং সেন্টারের চেয়ারম্যান নুর নবী সিমুর সভাপতিতে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তানভীর হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান ড.মোহাম্মদ কামরুল আহসান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী,যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রমুখ।

Sharing is caring!

Loading...
Open