আসাদ উদ্দিনের স্বপ্নের আসনে মাসুক উদ্দিন !

মাসুক উদ্দিন আহমদ ও আসাদ উদ্দিন আহমদ। আপন ভাই-ভাই তাঁরা। মাসুক উদ্দিন বয়সে বড় আর আসাদ বয়সে ছোট। দু’জনই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন ওতপ্রোতভাবে। সিলেটের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাঁদের অবদান অনেক। তবে বর্তমানে পালাক্রমে তাঁদের দু’জন আওয়ামী লীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেন। নগরীতে দুই ভাই একসাথে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন বিঁধায় তাঁদের দু’জন একসাথে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে পারেন নি কখনো। মহানগর আওয়ামী লীগের বিলুপ্ত কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আসাদ উদ্দিন আহমদ। আর আজ বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ভাগিয়ে নিলেন তারই বড় ভাই মাসুক উদ্দিন।

গত দুই অক্টোবর নগরীর কবি নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের সভায় নভেম্বরের শেষ দিকে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের কথা জানিয়েছিলেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ন সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি। এরপর থেকে সিলেটে শুরু হয় তুলজোড়। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা বাদে সকল উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সমাপ্ত করা হয়। সাথে সাথে মহানগরীর সবকটি কমিটি গঠন করা হয়। এরপর দলের হাইকমান্ড থেকে ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয় একই দিনে।

মূল পদে আসতে শুরু হয় নেতাদের দৌড়ঝাঁপ। কাউন্সিলরদের পাশাপাশি নেতারা লবিং করেন দলের হাইকইমান্ড পর্যন্ত। নেতাদের ব্যানার আর বিলবোর্ডে ছেয়ে গিয়েছিল গোটা সিলেট শহর। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের মূল পদে আসতে পারেন এমন কয়েকজন নেতাদের নাম ছিল সর্বত্র আলচনায়। জেলায় সভাপতি হিসেবে লুৎফুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট ৩ আসনের সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ ও মন্ত্রী ইমরান আহমদের নাম ছিল আলোচনায়। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, নিজাম উদ্দিন, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক ও জগলু চৌধুরীর নাম শুনা যাচ্ছিলো।

আর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে সভাপতি হিসেবে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, দলের মহানগর শাখার সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের নাম ছিল বেশ আলোচনায়। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় ছিল অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, বিজিত চৌধুরীসহ বিভিন্ন নেতার নাম।

মাসুক উদ্দিন রাজনীতি করতেন জেলা আওয়ামী লীগে। সহ সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।বৃহস্পতিবারের সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি(মাসুক) জেলা কিংবা মহানগরের মূল দায়িত্ব পাচ্ছেন এমন আভাস ছিলনা বললেই চলে। কারণ তাঁর আপন ছোট ভাই আসাদ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন প্রকাশ্যে। বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আসাদ মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সর্বশেষ সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছিলেন দলের মনোনয়ন।

সিলেট আওয়ামী লীগের সম্মেলনে মূল পদে আসতে পারেন এমন নেতাদের ছবি দিয়ে নেতাকর্মীরা গোটা নগরীতে লাগিয়েছিলেন অসংখ্য ব্যানার পোস্টার ও বড় বড় বিলবোর্ড। মাসুক উদ্দিনকে জেলা কিংবা মহানগরের সভাপতি হিসেবে দেখতে চেয়ে কোথাও কোন ব্যানার কিংবা বিলবোর্ড লাগাতে দেখা যায়নি। কারণ নেতাকর্মীদের ধারণা ছিল মাসুকের ছোট ভাই আসাদ উদ্দিন মহানগর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন। এজন্য অনেক নেতাকর্মীরা আসাদের নাম-ছবি দিয়ে নগরীতে লাগিয়েছিলেন অসংখ্য ব্যানার আর বিলবোর্ড।

তবে শেষমেশ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে চমক দেখিয়েছেন মাসুক উদ্দিন আহমদ। মাসুক তাঁর ছোট ভাই আসাদের স্বপ্নের আসনে আসীন হলেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আসীন হলেন মাসুক।আর এতেই দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, একজন `ভাগ্যবান মাসুক।

Sharing is caring!

Loading...
Open