এবার নগরীতে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ


অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ::সিলেটে দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে সিলেট নগর ট্রাফিক পুলিশের গুটিকয়েক অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এই চাঁদাবাজির অভিযোগ আজকে নতুন নয়।এই বিষয়ে বিভিন্ন গাড়ি চালকগনের অভিযোগ জমা হতে থাকে সুরমা টাইমসের অফিসে।আর এই বিষয়টিকেই সামনে রেখে অনুসন্ধানে নামে সুরমা টাইমসের অনুসন্ধানী টিম,

এতে করে একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে থলের বিড়াল।সরজমিনে অনুসন্ধানে নেমে দেখা জায় সিলেট নগর ট্রাফিক পুলিশের ব্যাপরোয়া চাঁদাবাজি এবং উৎকুচ আদায়ে অতিষ্ট নিরীহ গাড়ি চালকগন।একে-তো ট্রাফিক আইন ২০১৮ সংশোধন পাস হয়,

এতে করে জরিমানার হার এবং বিভিন্ন অপরাধের দন্ড এবং জরিমানা হারের আকাশ, পাতাল পার্থক্য সচেতন মহল ও গাড়ি চালকগনের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া,তার উপরে আবার ট্রাফিক পুলিশের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি অনেকটাই ভয়ংকর রুপ ধারন করেছে,অনুসন্ধানে জানা জায় নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছেন।

একাদিক ভুক্তভোগীদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জানা জায়,গাড়ির কাগজ দেখার নামকরে রিকুইজিশনের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছেন কতিপয় অসাধু ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবলরা।এদিকে সম্প্রতি নগর ট্রাফিক অফিসের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রীতিমত বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয় নগর জুড়ে। গত সাপ্তাহ থেকে নগরীর ট্রাফিক পুলিশ শুরু করে ব্যটারী চালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান।আর এই অভিযানে নেমেই ট্রাফিক পুলিশের হাতে নগরীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ৩০ থেকে ৪০ টি ব্যটারী চালিত অটোরিকশা আটক হয়।

এই রিকশাগুলোর মধ্যে আবার কয়েকটি অটো রিকশা ছেড়ে দেয়া ও হয়।এই আটক ও ছেড়ে দেওয়ার লুকোচুরি খেলাতে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্টরা হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।গত সাপ্তাহে নগরীর ২২ নং ওয়ার্ড উপশহরের এবিসি পয়েন্ট থেকে আটক করা হয় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি ব্যটারি চালিত অটোরিকশা।অসহায় চালকগন ট্রাফিক অফিসে বার বার ধরনা দিয়েও একমাত্র জীবিকা নির্বাহেরপথ তাদের রিকশাগুলো নির্ধারিত জরিমানা দিয়েও ছাড়িয়ে আনতে পারেননি।

গত ২৮শে নভেম্বর(বৃহস্পতিবার)নগরীর চৌকিদিঘি ও আম্বরখানা এলাকা থেকে আটককৃত ১০ থেকে ১৫ টি অটোরিকশা একদিনের ব্যবধানেই গত ৩০ শে নভেম্বর( শনিবার)ছেড়ে দেয়া হয়।আর এতেই সৃষ্টি হয় বিপত্তি ।অনুসন্ধানে জানা জায় এই রিকশাগুলোর অধিকাংশেরই মালিক নগর ট্রাফিক পুলিশের একজন কনেস্টবল।

তিনি তার এবং আটককৃত মোট ১৫ টি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা শনিবার সকাল আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকায় ট্রাফিক অফিসে স্বস্ত্রীক হাজির হয়ে তা ছাড়িয়ে নেন । এ ঘটনাটি যখন সাধারণ রিকশা চালকগন জানতে পারে যে আগের দিনের আটকৃত ১০/১৫ টি রিকশা ছেড়ে দেওয়া হয়ছে।কিন্তু সপ্তাহ খানেক থেকে তাদের আটককৃত রিকশাগুলো নানা ধরনের টালবাহানা দেখিয়ে ছাড়া হচ্ছে না,তখন শনিবার ৩০ শে নভেম্বর নগরীর শাহজালাল উপশহরস্থ ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ের সামনে রিকশা চালকগন একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে।

এবং ট্রাফিক পুলিশের এহেন দুর্নিতির প্রতিবাদ করে,তখন দায়িত্বরত ট্রাফিক কনেস্টেবলরা দরিদ্র রিকশা চালকদের বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেয়।যার একটি ভিডিওচিত্র সুরমা টাইমস কর্তৃপক্ষের নিকটে সংরক্ষিত আছে।এধরণের স্বজনপ্রীতি ও আনুষাঙ্গিক ঘটনার ব্যপারে জানতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশের টি আই(প্রশাসন) মুহিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করাহলে তিনি এ-প্রতিবেদককে বলেন এ ব্যপারে আমার কিছু জানা নেই এটা আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের ব্যাপার ।

একথা বলেই তিনি মোবাইল ফোন কেটে দেন ।তখন এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিকের এডিসি নিকলিন চাকমা’র সাথে যোগাযোগ করা করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেনা বলে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।পরবর্তীতে এ ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশের ডিসি ফয়সল মাহমুদের মোবাইলে একাধিক বার কল দেয়ার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এনিয়ে সচেতন মহল এবং ২২ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলর থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের ভেতর একিটি প্রশ্নই বারংবার ঘুরপাক খাচ্ছে, যে ট্রাফিক বিভাগের যেকোনো গাড়ীর মামলা সংক্রান্ত বিষয় এবং ছোটখাটো মামলার সরকার নির্ধারিত জরিমানা দিয়ে তা নিষ্পত্তির দায়িত্বশীল ব্যক্তি টি.আই(প্রশাসন)মুহিবুর রহমান।কিন্তু তিনি নিজেই জানেনা কিভাবে আটকৃত ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা গুলো অগোচরেই ছাড়া পেয়ে গেলো?? আর এধরণের কাজ কিভাবেই ঘটলো? সত্যিই কি টি.আই( প্রশাসন )মুহিবুর রহমান আদৌ এতোবড় একটি বিষয় জানেননা ? না কি তিনিও উক্ত ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত!!(চলবে)_

Sharing is caring!

Loading...
Open