বিশ্বনাথে গাড়ি পার্কিং নিয়ে হামলা, সেনাবাহিনীর মেজরসহ আহত ১০

সিলেটের বিশ্বনাথে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিভাস পাল (৪২) নামের এক ব্যবসায়ী ও সৈয়দ এনামুল হাসান কামাল (৪২) নামে সেনাবাহিনীর এক মেজরের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই মেজর ও ব্যবসায়ীসহ উভয় পক্ষে অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে বিশ্বনাথ নতুন বাজারের বিভাস পালের রাখী ট্রেডার্স নামক দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় বিভাস পালকে রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত বিভাস বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের পার্শ্ববর্তী জানাইয়া গ্রামের মৃত চিত্তরঞ্জন পালের ছেলে। আর আহত মেজর এনামুল হাসানও জানাইয়া গ্রামের পার্শ্ববর্তী শ্রীধরপুর গ্রামের সৈয়দ আরিফ আলীর ছেলে।বর্তমানে তিনি (মেজর) সিলেটের রায়নগরের বাসিন্দা।

বিভাস পালের পক্ষে অন্য আহতরা হলেন,তার ম্যানেজার দিপুল দেব (৫৫), পাশের দোকানের ব্যবসায়ী রামধানা গ্রামের মাশুক মিয়া (৪৫), পথচারী আব্দুল আলীম (৩৫) আর মেজর এনাম পক্ষে বাকি আহতরা হলেন, তার বোন সৈয়দ আমিনা আক্তার রুনা (৩০), বোনজামাই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহ্‌ জহিরুল ইসলাম (৩৮), ছোটভাই সৈয়দ ইব্রাহিম হাসান নাঈম (২৭) ও ভাগনা শাহ আমিনুল ইসলাম (৭)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্বনাথ বাজারের ভবঘুরে ইউসুফ পাগলার সঙ্গে সপরিবারে দোয়া নিতে যান মেজর এনাম। বেশ কিছু সময় খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন ইউসুফ পাগলা বিশ্বনাথ নতুন বাজারে আছেন। রাত ৮টারদিকে বিশ্বনাথ নতুন বাজারের গিয়ে রাখী ট্রেডার্সের সামনে তাদের ব্যবহৃত কার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো গ-২৯-৮৯৯১) গাড়িটি পার্কিং করেন। এসময় দোকান মালিক বিভাস পালের ম্যানেজার দিপুল দাস তাদেরকে সেখানে গাড়ি পার্কিং করতে নিষেধ করেন। এনিয়ে মেজর এনাম ও দিপুলের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মেজর এনাম তার উপর হামলা করেন।

এসময় পামের দোকানের ব্যবসায়ী মাশুক মিয়া এগিয়ে গেলে তাকেও হামরা করেন মেজর। এরপর দোকান মালিক বিভাস বাইরে থেকে দোকানে এসে দাঁড়ালে তাকেও পিটিয়ে আহত করেন তিনি। পরে বিভাস ও তার ম্যানেজার পাল্টা হামলা চালালে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের পক্ষ নেয়। ফলে পাল্টাপাল্টি এ হামলায় মেজর ও তার ভাইসহ উভয় পক্ষে ১০জন আহত হন। খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) রমা প্রসাদ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মেজরসহ তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে দাবি করে বিশ্বনাথ থানার ওসি (তদন্ত) রমা প্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, পুলিশ প্রটেকশন চাইলে মেজর ও তার পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে গেছেন তিনি।

Sharing is caring!

Loading...
Open