জকিগঞ্জে বুন্ডুল বাহিনী বেপরোয়া

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার থানাবাজার এলাকা কেন্দ্রিক ‘বুন্ডুল’ বাহিনী নামে একটি গ্যাং গড়ে উঠেছে। চুরি, ডাকাতি, নাশকতা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সরকারি সম্পত্তি দখল সহ নানা অপকর্ম করছে এ বাহিনী। এদের অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে দফায় দফায় হয়রাানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এলাকার অনেকেই। কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা এদের এসব অপকর্ম। এদের বিরুদ্ধে জকিগঞ্জ থানা ও জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একাধিক মামলা থাকলেও আইনের ফাঁক দিয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে পেরোয়া হয়ে উঠে। তাদের এহেন অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জকিগঞ্জ উপজেলার ৬নং সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ডে বিগত দু’টি নির্বাচনে সদস্য পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয় আব্দুল মুমিত বন্ডুল। পরাজিত হয়েই প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে এলাকায় নিজের একটি বাহিনী গড়ে তুলেন। এ বাহিনী কথিত এক আওয়ামীলীগ নেতা ও থানাবাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতির সমর্থন নিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কয়েম করে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই পড়তে হয় চরম বিপাকে। মান সম্মানের ভয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে এদের অপকর্ম।

স্থানীয়রা জানান, বুন্ডুল বাহিনীর সদস্য ফলাহাট গ্রামের মিছবাহ উদ্দিন উরফে জাবাআলা মিছবাহ, মাছুম আহমদ, বাহার উদ্দিন, রেহান আহমদ, লোকমান আহমদ, কামাল আহমদ, ফখরুল ইসলাম, জাহেদ আহমদ ও ময়নুল হক গংদের উপর থানা ও কোর্টে একাধিক মামলা থাকলেও তাদের কুকর্ম কিছুতেই থামেনি। আইনী প্রক্রিয়ায় জামিন নিয়ে এলাকায় এসে পুনরায় শুরু করে নানা কুকর্ম। গত ২৪ অক্টোবর একটি মামলায় বুন্ডুল বাহিনীর প্রধান আব্দুল মুমিত বুন্ডুল সহ মিছবাহ উদ্দিন উরফে জাবাআলা মিছবাহ আদালতে হাজির হলে আদালত মিছবাহকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। ২০০৯ সালে রারাই গ্রামের ছানু মিয়ার দায়েরকৃত জিআর ২০০/২০০৯ইং মামলায় জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আসামী আব্দুল মুমিত বুন্ডুল, ফখরুল ইসলাম, মাছুম আহমদ, মিছবাহ উদ্দিন হাজির হলে আদালত দন্ড বিধির ১৪৩ ধারায় দোষি সাব্যস্ত করে ১ মাসের কারাদন্ডে দন্ডিত করেন। একই আসামীকে দন্ডবিধি ৩২৩ ধারায় দোষি সাব্যস্ত করে ১ বছরের স্বশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেন। অপর আসামী লেদনকে দন্ডবিধি ১৪৪ ধারায় দোষি সাব্যস্থ করে ১ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। একই আসামীকে দন্ডবিধি ৩২৪ ধারায় দোষি সাব্যস্থ করে ১ বছর ৬ মাস কারাদন্ডে দন্ডিত করেন। পরবর্তীতে আসামীগণ বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে একের পর এক অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যায়। বিগত ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারী রাতে এসকল আসামীরা ৬নং সুলতানপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য শামীম আহমদ খান ও তার পিতা হুমায়ুন রশীদ খান এর উপর চড়াও হয়ে মারধর করে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য শামীম আহমদ বাদী হয়ে জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় জকিগঞ্জ সিনিয়ির জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত আসামী আব্দুল মুমিত বুন্ডুল ও মারুফ আহমদ এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রামাণ হওয়ায় দোষী সাব্যস্থ করে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন। অনাদায়ে আরো ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। চলতি বছরের ৯ মার্চ স্থানীয় পাঠানচক গ্রামের বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক কাউছার আহমদ খান এর ফার্মেসী থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় এবং আসবাবপত্র ভাঙ্গচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। এ ঘটনায় পল্লী চিকিৎসক কাউছার আহমদ খান বাদী হয়ে জকিগঞ্জ থানায় মিছবাহ উদ্দিন, আলাল আহমদ, মারুফ আহমদ, কামাল আহমদ, ফখরুল ইসলাম, জাহেদ আহমদকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একই বাহিনীর সদস্যরা গত ২৮ জুলাই স্থানীয় থানাবাজারে থানাবাজার লতিফিয়া ফুরকানিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য কৃষকলীগ নেতা আব্দুর রউফ (রব) এর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় আব্দুর রউফ রব বাদী হয়ে বাহার আহমদ, লোকমান আহমদ ও রেহান আহমদ গংদের বিরুদ্ধে জকিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন আছে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, বুন্ডুল বাহিনী থানাবাজার ও আশপাশ এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছে। এমন কোন অপরাধ নেই যা তারা করেনা। বর্তমানে এ বাহিনীর সদস্যরা সওজের মালিকানাধীন সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের বাম পাশে জায়গা দখল করে স্থায়ী-অস্থায়ী কাঁচা পাঁকা ঘর নির্মাণ করে বাড়া আদায় ও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এহেন দখল বাণিজ্যের কারণে সড়কের পাশ দিয়ে হাটার জায়গা না থাকায় প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে। এনিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেছেন। স্থানীয় এলাকাবাসী বন্ডুল বাহিনীর এসব অপকর্ম থেকে বাঁচতে চায়।

Sharing is caring!

Loading...
Open