দক্ষিণ সুরমার কদমতলীতে গ্যাস সিলিন্ডার জালিয়াতির আস্তানা!


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেটের বাজারে বিক্রি হয় বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার। গ্রাহকরা এসব সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমাণ না জেনেই কিনে থাকেন। কিন্তু নিজের অজান্তেই ঠকে যাচ্ছেন তারা। সিলেটেই সক্রিয় রয়েছে গ্যাস জালিয়াতির একটি চক্র। তিনটি গ্যাস সিলিন্ডারে যে পরিমাণ গ্যাস থাকার কথা তা ভরে দেওয়া হচ্ছে পাঁচটি সিলিন্ডারে। এ ধরণের গ্যাস সিলিন্ডার জালিয়াতির আস্তানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।

সিলেট শহরতলীর দক্ষিণ সুরমার কদমতলীর জকিগঞ্জ সড়কের সাঈদ ম্যানশন মার্কেটের ভেতরের টিনের ঘরে দীর্ঘদিন ধরে এ জালিয়াতির কাজ চালানো হচ্ছিল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলিন্ডার জালিয়াতির মূল হোতা গোলাপগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর আস্থাভাজন খ্যাত সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিনের ভাই গোলাপগঞ্জ কল্পনা এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী সৈয়দ জিল্লুর রহমান।

সৈয়দ জিল্লুর রহমান ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলাসহ সিলেট কদমতলী এলাকায় ভাড়া করা শ্রমিকদের দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন। গোলাপগঞ্জে তার বাড়ির পাশে আরো ২টি সিলিন্ডার জালিয়াতির আস্তানা রয়েছে। প্রকৃত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করলেই তিনি তাদের দমাতে নানা পদ্ধতি অবলম্বন করতেন।

ওই জালিয়াতির আস্তানা থেকে পালিয়ে যাওয়া দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের খিদিরপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন সানি (৩০) এর সাথে আলাপ হয় এ প্রতিবেদকের। পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর কয়েকজন সাংবাদিক তার এক নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে সানির সাথে দেখা করলে সে গোলাপগঞ্জের কল্পনা এন্টারপ্রাইজের সত্তাধিকারী সৈয়দ জিল্লুর রহমানের জালিয়াতির বিষয়টি তুলে ধরে। এসময় সে জানায়, কারখানায় যোগদান করার আগে পুলিশের ভয়ের বিষয়টি জানালে- আমি সৈয়দ জিল্লুর জানান, আমাদের দল ক্ষমতায়, আমার ভাই সৈয়দ মিসবাহ’র মাধ্যমে সব সামলে নেবো।

গত ২১ জুলাই তার জালিয়াতির বিষয়ে একটি অভিযোগ সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবরে দিয়েছেন হেতিমগঞ্জ বাজারের সাকির আহমদ নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জ বাজার মেসার্স খাঁন এন্টার প্রাইজের পরিচালক। তিনি দীর্ঘদিন থেকে হেতিমগঞ্জ বাজারে স্যানেটারি ব্যবসার পাশাপাশি এল.পি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা করে আসছেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, কল্পনা এন্টারপ্রাইজের সৈয়দ জিল্লুর রহমান তার ভাইয়ের রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার অপরাধের কথা কেউ বলতে গেলেই মামলার মধ্যে জড়ানো হয়।

এ বিষয়ে কল্পনা এন্টারপ্রাইজের সৈয়দ জিল্লুর রহমানের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন- সব বানোয়াট কথা। ওই আস্তানা থেকে পালিয়ে যাওয়া জাকির হোসেন সানির মোবাইলের কল লিস্টে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে তো ধরা পড়েনি। আপনারা তাকে পেলেন কোথায়? এ বলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে বার বার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সাথে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে প্রতারণার মূলহোতাকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানা।এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খাইরুল ফজলের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন-এ বিষয়ে মামলা হবে।

উল্লেখ্য যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা শাখার লোকের উপস্থিতিতে রবিবার (২৮ জুলাই) রাত ১০টায় টার্মিনাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহিন, এএসআই মনজু সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দক্ষিণ সুরমার অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয় ওই আস্তানার পেছনের দরজা দিয়ে জালিয়াতি চক্রের লোকজন পালিয়ে যায়। পরে রাত গভীর হওয়ায় অভিযান বন্ধ করে ওই আস্তানা ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন। সোমবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় ওই আস্তানায় সিলেট গোয়েন্দা শাখা (এনএসআই)’র উপ-পরিচালক শামসুজ্জোহা ও জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এরশাদের উপস্থিতিতে ওই আস্তানার তালা ভেঙ্গে পুলিশ আবার অভিযান চালায়। এসময় ওই আস্তানা থেকে ওজন মাপার ২টি মিটার, বিভিন্ন কোম্পানির স্টিকার, জালিয়াতির সরঞ্জামসহ বেশ কিছু সিলিন্ডার জব্দ করা হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close