সিলেটে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে গুজব ছড়াতে পারেনি চক্র

সিলেটে একটি চক্র গুজব ছড়িয়ে বাড়িয়ে দেয় লবণের মূল্য। তবে এ গুজব ঠেকাতে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। ফলে গুজব ছড়ানো চক্রের তৎপরতা বেশি দূর আগাতে পারেনি।

জানা গেছে, কাল সোমবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরের পর থেকে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে লবণের মূল্য বাড়িয়ে দেয় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। বাজারে প্রতি কেজি লবণের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। কিন্তু গুজব ছড়িয়ে সেই লবণ প্রতি কেজি ৪০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয় বিভিন্ন স্থানে।

সিলেটের জকিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, বিয়ানীবাজার ও বিশ্বনাথসহ বিভিন্ন স্থানে ‘লবণ সংকটের’ কথা বলে দাম বাড়িয়ে দেয় একটি চক্র। এছাড়া সিলেট নগরীর বন্দরবাজার, কাজীরবাজার, আম্বরখানা, শাহপরান, সুবিদবাজার, আখালিয়া প্রভৃতি স্থানে বেশি দামে লবণ বিক্রি হতে দেখা যায়।

সাথে সাথে জেলা পুলিশ ও এসমপি পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই গুজবের বিরুদ্ধে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে তৎপরতা শুরু করে প্রশাসন। বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় অভিযান। এ অভিযান চলে আজ মঙ্গলবারও।
জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে মাইকিং করে প্রশাসন। তারা জানায়, লবণের দাম বাড়েনি, কেউ যাতে বিভ্রান্ত না হন। এছাড়া বিভিন্ন দোকানে গিয়ে বেশি দামে লবণ বিক্রি না করতে হুঁশিয়ারিও দেয় উপজেলা প্রশাসন।

সিলেটে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে গত সোমবার রাতে বিভিন্ন উপজেলার বাজারে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে লবণে অতিরিক্ত মূল্য রাখায় তাজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

সিলেট নগরীর কালিঘাটে বাড়তি দামে লবণ বিক্রি হচ্ছে এমন তথ্যে সোমবার রাতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে প্রায় এক হাজার কেজি লবণভর্তি ভ্যান জব্দ করা হয়। এ সময় বেশি দামে লবণ বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে, গুজবের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন সিলেট নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা। তিনি বলেন, যারা গুজব ছড়াবে, তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেটে লবণ নিয়ে যে গুজব ছড়িয়েছিল, তা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে বেশি দূর ছড়ায়নি। প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করায় গুজব রটনাকারীরা চুপসে যায়। ফলে বাজারে লবণের মূল্যও স্বাভাবিক হয়ে আসে। মঙ্গলবার সিলেটের বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত মূল্যেই লবণ বিক্রি হতে দেখা গেছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close