সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে আজ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কার্যকর হয়েছে ১ নভেম্বর থেকে। প্রথম দুই সপ্তাহ সচেতনতা তৈরির ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে আইনটির প্রয়োগ শিথিল ছিল।

এদিকে রোববার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল গেজেট হয়েছে। ফলে আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালত আজ থেকে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন বিআরটিএর পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মাসুদ আহমেদ।

রোববার সকালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে নতুন সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আইনের বাস্তবায়ন দুই সপ্তাহ আমরা একটু শিথিল করেছিলাম। অনেকে হয়তো জানে না, কোন অপরাধ, কোন বিশৃঙ্খলার জন্য কী শাস্তিটা পেতে হবে। তার জন্য আমি দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছি।’

১ নভেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করে সরকার। তবে নতুন আইনে মামলা ও শাস্তি দেওয়ার কার্যক্রম মৌখিকভাবে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেন সড়কমন্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নতুন সড়ক আইনে ১৪টি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে আইনে থাকা বিভিন্ন বিষয়ের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এর পরের অধ্যায়গুলোতে যানবাহন ও চালকের যাবতীয় দলিল সংগ্রহ এবং করণীয় সম্পর্কে বলা আছে। এরপর বিআরটিএসহ পরিবহনসংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া কী করলে আইন অমান্য হয়, তার বর্ণনা আছে। আর শেষের দিকে আইন অমান্যের দায়ে কী শাস্তি হবে, সেটার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। যানবাহন, চালক ও প্রতিষ্ঠানসম্পর্কিত অধ্যায়গুলোতে আগের আইনের চেয়ে খুব বেশি পার্থক্য নেই। ফলে যানবাহনের নিবন্ধন প্রদান, ফিটনেস সনদ হালনাগাদ, চালকের লাইসেন্স প্রদানসহ দৈনন্দিন কাজ নতুন আইন ও পুরোনো বিধিমালার আলোকে চলছে।

ট্রাফিক পুলিশের মামলা না দেওয়ার বিষয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্সের বৈঠক হবে ২৪ নভেম্বর। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেবেন। শুরুতে আইন প্রয়োগে কিছুটা শিথিলতা দেখানো হবে, এমন ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশনা দেবেন যাতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয়। প্রথমবারই বড় জরিমানা হয়ে যাবে, তা নয়। এমনও হতে পারে, অপরাধ কম হলে জরিমানাটা এক হাজার টাকা হবে। আবার এটা বারবার করলে সেখানে জরিমানাটা বাড়বে।

আইনটি কার্যকরের পর থেকেই বিভিন্ন ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। এবার তারা হাঁটছেন আন্দোলন-ধর্মঘটের পথে। গতকাল যশোর থেকে দেশের ১৮টি রুটে ধর্মঘট শুরু করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

নতুন সড়ক আইনে দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু হলে দায়ী চালককে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর যদি দুর্ঘটনা চালকের ইচ্ছাকৃতভাবে হয়, তাহলে তার বিচার হবে ফৌজদারি আইনের ৩০২ ধারায়। এ ধারায় দোষী চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি এ ধারার অপরাধ জামিন অযোগ্য। শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে বিক্ষিপ্তভাবে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট করলেও এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে এ ধরনের কোনো কর্মসূচি নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী। তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে আমাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছি। এ বিষয়ে ২১ ও ২২ নভেম্বর দুদিনব্যাপী আমাদের একটি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সেই বৈঠকে এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরা হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ধর্মঘটের সঙ্গে ফেডারেশনের কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে রোববার নতুন সড়ক আইনটি ২০০৯ সালের মোবাইল কোর্ট অ্যাক্টে তফসিলভুক্ত হয়েছে বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান। তিনি জানান, তফসিলভুক্ত হওয়ায় এখন বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন কার্যকর করতে পারবে। আইনের বিধি প্রণয়নের কাজ চলছে। যতদিন পর্যন্ত বিধি প্রণয়ন না হবে, ততদিন পুরনো আইনের বিধি দিয়েই বিআরটিএ কাজ করবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open