বাহুবলে দুটি রিভলবার ও ৮ রাউন্ড গুলিসহ ডাকাতকে আটক

বাহুবল উপজেলায় মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে ৩টি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জয়পুর গ্রামে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১ ডাকাতকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। পরপর ৩টি ডাকাতির ঘটনায় জনমনে ছড়িয়ে পড়েছে ডাকাত আতঙ্ক।

জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টায় ওই গ্রামের হাজী মতিন মিয়ার বাড়িতে দুটি মোটর সাইকেল নিয়ে হানা দেয় একদল ডাকাত। এসময় ডাকাতরা গৃহকর্তা হাজী মতিন মিয়া, তার পুত্র জুনাব আলী ও কামাল মিয়ার হাত-পা বেঁধে মারধোর করে এবং স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে জনৈক প্রতিবেশী শোর-চিৎকার শুরু করেন। পরে তার শোর-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে সবুজ মিয়া (৩০) নামে এক ডাকাতকে মোটর সাইকেলসহ আটক করে গণধোলাই দেন। তবে সবুজের সহযোগী অপর ডাকাতরা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ ডাকাত সবুজকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এসময় তার কাছ থেকে দুটি রিভলবার ও ৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হাজী মতিন মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গণধোলাইয়ে গুরুতর আহত ডাকাত সবুজকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আহত ডাকাত সবুজ তার সহযোগী অপর ৩ ডাকাতের নাম প্রকাশ করেছে।

এদিকে, গত ১৫ দিনের ব্যবধানে উপজেলার পৃথক স্থানে আরো দুটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ৪ নভেম্বর সোমবার দিবাগত রাত দেড়টায় উপজেলার নোয়াগাও গ্রামের মোস্তফা আলী ওরফে চেরাগ আলীর বাড়িতে হানা দেয় একদল ডাকাত। এসময় ডাকাতরা পরিবারের লোকজনের হাত-পা বেঁধে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল নির্বিঘেœ লুটপাট করে। এ ঘটনায় মোস্তফা আলী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এছাড়াও প্রায় ১৫ দিন পুর্বে বাহুবল সদরের জাঙ্গালিয়া (থানা থেকে প্রায় পৌনে ১ কিলোমিটার দুরত্বের মধ্যে) এলাকার বাসিন্দা জয়নাল মিয়া মাস্টারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা ওই বাড়ি থেকেও স্বর্ণালংকারসহ কয়েক লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটপাট করে বীরদর্পে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় আনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে ৩টি দুর্ধর্ষ ডাকাতির বিষয়ে জানতে চাইলে বাহুবল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জাঙ্গালিয়ায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় লুন্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধারসহ ৩ ডাকাতকে গ্রেফতার, নোয়াগাও গ্রামে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় পরিত্যাক্ত অবস্থায় ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধারসহ ১ ব্যাক্তিকে গ্রেফতার এবং পশ্চিম জয়পুর গ্রামে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় দুটি রিভলবার, ৮ রাউন্ড গুলি, একটি মোটর সাইকেলসহ ১ ডাকাতকে আটক করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রতিটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ডাকাতদের ইতিমধ্যেই সনাক্ত করা হয়েছে। কৌশলগত কারণে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। কিছু ডাকাতের বাড়ি এলাকার বাইরে হওয়ায় গ্রেফতার করতে সমস্যা হচ্ছে। আর অবশিষ্ট ডাকাতরা ঘাঁ ঢাকা দিয়েছে। তবে ডাকাতদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open