ছাত্রলীগ সভাপতি পরিচয় দিয়ে প্রবাসীর জমি আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগ

ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি পরিচয় দিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. সাজিদুর রহমানের ভূমি দখলে নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর গ্রামের আলী আহমদের ছেলে রাজু ও তার সহযোগীরা। তার ভয়ে প্রবাসী সাজিদ বাংলাদেশে আসতে পারছেনও না। এমন অভিযোগ করেছেন সাজিদের চাচাতো ভাই শাহেদ আহমদ।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার চাচাতো ভাইবোনেরা তাদের বাপ দাদার বসতবাড়িতে ফিরতে চান। পরিবার পরিজন নিয়ে প্রিয় স্বদেশে আসার ইচ্ছা তাদের। কিন্তু সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকিতে তারা দেশে আসতে ভয় পাচ্ছেন। এজন্য তিনি ভূমিখেকো সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনাও করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার চাচা মরহুম সুনু মিয়া তিন ছেলে ও সাত মেয়ে রেখে ২০০৬ সালের ৮ এপ্রিল মারা যান। তারা সকলেই যুক্তরাজ্য প্রবাসী। আমার চাচার মৃত্যুর পর আমাদেরই নিকটআত্মীয় মৃত ওয়ারিছ আলীর পুত্র আলী আহমদ, নূর আহমদ, দিল আহমদ, আলী আহমদের পুত্র রাজু, মৃত রহমত উল্লার পুত্র গুলজার এবং দিল আহমদের পুত্র ছানাওর মিয়া চাচার রেখে যাওয়া সম্পত্তি আত্বসাতের জন্য পায়তারা শুরু করে। ইতোমধ্যে তারা বাড়ির পশ্চিমাংশের ভূমির কয়েক শতক দখলও করে নিয়েছে। এখন তারা সাজিদুর রহমানের বসত ঘরের পশ্চিমে বেশ কয়েক শতক ভূমি মাঠি ভরাট করে দালানকোঠা নির্মাণের চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা স্থানীয় মুরব্বীদের জানালে এবং মাঠি ভরাটের প্রতিবাদ করলে তারা আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এতে তিনিসহ তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও দাবি করেন। তিনি বলেন, চাচাতো ভাই-বোনেরা প্রবাসে থাকায় তাদের সম্পত্তি তিনি এবং তার ফুফাতো ভাই সৈয়দ মিজাত মিয়া দেখাশুনা করছেন। এ জন্য সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে আসছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজু নিজেকে সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে আমাদের সম্পত্তিটুকু আত্বসাতের পায়তারা করছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সে এলাকায় নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীও গড়ে তুলেছে। অস্ত্রবাজ এবং মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবী হিসেবে সে সর্বমহলে পরিচিত। তার ভয়ে প্রবাসীরা দেশে আসতে পারছেননা। সে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে। যা এলাকার মানুষও জানেন।’

এমতাবস্থায় রাজুসহ তার সহযোগীদের গ্রেফতার না করলে তারা এলাকায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে এবং যেকোনো সময় খুন-খারাবিসহ বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।

Sharing is caring!

Loading...
Open