জালিয়াতি করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পাঁচ শিক্ষার্থী আটক

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসে পাঁচ শিক্ষার্থী আটক হয়েছেন। এছাড়া এই জালিয়াত চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের আরেক শিক্ষার্থীকে পুলিশে দেয়া হয়েছে।

শাবি প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটক পাঁচজনের চারজন বগুড়া জেলার বাসিন্দা। আটককৃতরা হলেন- বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়নের সাকীদুল ইসলাম শাকিল (মেধাক্রম ৬৫৮), রহিমাবাদ এলাকার আবিদ মোর্শেদ, সদর উপজেলার বৃন্দাবনপাড়া ওয়ার্ডের আরিফ খান রাফি (মেধাক্রম ৭০২), বগুড়া সদরের কলেজ বটতলা এলাকার জাহিদ হাসান তামিম (মেধাক্রম ৬৪১) ও রংপুরের পীরগাছা উপজেলার রিয়াদুল জান্নাত রিয়াদ (মেধাক্রম ৬৬১)।

অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ জানান, মঙ্গলবার ‘বি-১’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম চলাকালে সন্দেহজনক অবস্থায় এদেরকে আটকের পর কয়েক ঘন্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রক্টরিয়াল বডি। পরে ভর্তি জালিয়াতিতে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় রাতেই তাদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদের সবার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন।

এছাড়া এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকা ও বিশাল পরিমাণে আর্থিক লেনদেনের বিষয় প্রমাণিত হওয়ায় শাবির ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টি টেকনোলজি বিভাগের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের সামিউল ইসলাম কৌশিক নামের এক শিক্ষার্থীকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কৌশিক ক্যালকুলেটর জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেও ভর্তি হয়েছেন বলে ধারণা করছে প্রক্টরিয়াল বডি। কৌশিক তিনজনকে এবছর জালিয়াতির মাধ্যমে চান্স পাইয়ে দিয়েছেন বলে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এদের প্রতিজনের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়েছে কৌশিক বলে জানান শাবি প্রক্টর।

সূত্র জানায়, আটককৃত পাঁচজনের তিনজন ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে জালিয়াতি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে বলে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। অন্য দুইজন স্বীকারোক্তি না দিলেও তাদের সংশ্লিষ্টতার সব ধরনের প্রমাণ পেয়েছে প্রশাসন।

জানা যায়, এই চক্রের সবাই ৫ থেকে আট লাখ টাকার চুক্তিতে জালিয়াতিতে যুক্ত হয়। এই চক্রের বেশিরভাগের বাড়ি বগুড়া। এমনকি গত ২৬ অক্টোবর শাবির ভর্তি পরীক্ষার দিন জালিয়াতির চেষ্টাকালে এই চক্রের আরও চারজন ধরা পড়েন যাদের সবার বাড়ি বগুড়া।

শাবি প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ জানান, এদের সবার ওএমআরের সেটকোড (৭৫), সবার দাগানো প্রশ্নের সংখ্যা, সঠিক উত্তর-ভুল উত্তর সমান। এদের অনেকে ওএমআর কালো টিপ দিয়ে পূরণ করে কিংবা পেন্সিল দিয়ে পূরণ করে স্বাক্ষর করার পর পরবর্তীতে ক্যালকুলেটরে উত্তর আসলে নির্দিষ্ট সেটকোড পূরণ করত।

অন্যদিকে এই চক্রের একজন সদস্য ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে চলে গেছেন বলে সত্যতা পেয়েছে প্রশাসন। তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন।

এছাড়া মমিনুল নামের আরেক সদস্যের মেধাক্রম দুইহাজার এর মত হওয়ায় তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন বলে প্রক্টরিয়াল বডিকে জানিয়েছে আটককৃতরা।

এছাড়া এভাবে এই বগুড়া চক্রের অনেক সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি কলেজে চান্স পেয়েছেন বলে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বলেন, আমরা ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশে দিয়েছি। পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর সকালে এ ইউনিটের ও বিকেলে বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১২ নভেম্বর থেকে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনে জালিয়াতি করে ভর্তির চেষ্টায় আটক হন এই পাঁচজন।

Sharing is caring!

Loading...
Open