মেক্সিকোয় রাজনৈতিক আশ্রয় নিলেন প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস

বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে চলমান বিক্ষোভের মুখে সদ্যপদত্যাগী বলিভিয়ান প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস মেক্সিকোয় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো ইভারার্ডের প্রস্তাবে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে সম্মত হন মোরালেস। খবর গার্ডিয়ান ও বিবিসি।

সোমবার পদত্যাগের পর এক টুইট বার্তায় মোরালেস বলেন, চলমান নির্বাচনী বিতর্কে আমি পদত্যাগ করতে সম্মত হয়েছি। আমি মেক্সিকোয় রাজনৈতিক আশ্রয় নিচ্ছি। তবে নবোদ্যম ও আরো বেশি শক্তি নিয়ে আমি আবার ফিরে আসব।

অন্যদিকে মেক্সিকোর পতাকা জড়ানো মোরালেসের একটি ছবি টুইটারে প্রকাশ করেছেন মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি টুইট বার্তায় লেখেন, মোরালেসকে নিয়ে মেক্সিকোর বিমান বাহিনীর একটি উড়োজাহাজ এরই মধ্যে রওনা করেছে। চলতি আন্তর্জাতিক প্রথা অনুসারে মেক্সিকো চাইলে যে কাউকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে পারে। তিনি লেখেন, আমাদের হাতে তোমার (মোরালেস) জানমাল সম্পূর্ণ নিরাপদ।

অক্টোবরের নির্বাচন নিয়ে বলিভিয়ায় সম্প্রতি ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। মোরালেস ও বিরোধী দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যে চলতে থাকে সংঘর্ষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লুটপাট, ভাংচুরের ঘটনারও খবর পাওয়া গেছে। এদিকে দেশটির সাংবিধানিক রাজধানী লা পাজে লোকজনকে ঘর থেকে বের না হতে অনুরোধ জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। এছাড়া চলমান সহিংসতা দমনে সেনাবাহিনীর সঙ্গে পুলিশকেও যোগ দেয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষত সোমবার মোরালেসের দেশ ত্যাগের খবরে নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হওয়ায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীগুলো।

এদিকে নিজের টুইট বার্তায় মোরালেস বলেন, ‘আমার ভাই ও বোনেরা, মেক্সিকোর উদ্দেশে আমি দেশ ছেড়ে যাচ্ছি। জীবন রক্ষার জন্য মেক্সিকো সরকার আমাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার যে উদারতা দেখিয়েছে, সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মোরালেস লিখছেন, রাজনৈতিক কারণে আমাকে দেশ ছাড়তে হচ্ছে, এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু নেই। তবে আমি ভেঙে পড়িনি। নবোদ্যম ও আরো বেশি শক্তি নিয়ে শিগগিরই ফিরে আসছি আমি।

প্রসঙ্গত, বলিভিয়ার নির্বাচন নিয়ে রোববার অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর সেখানকার পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে। বলিভিয়ার নির্বাচনে ‘সুস্পষ্ট কারচুপি’ ও নির্বাচনের প্রথম দফায় মোরালেসের বিজয়ের বিষয়টি তারা যাচাই করে দেখতে পারেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওএএসের প্রতিবেদনে। ওএএসের এমন প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন মোরালেস। কিন্তু সেনাপ্রধানের সরাসরি পদত্যাগের আহ্বানে সে সুযোগ পেলেন না মোরালেস। বাধ্য হয়ে সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন মোরালেস।

মোরালেসের পদত্যাগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বিশ্বনেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পশ্চিম গোলার্ধের দেশগুলোর গণতন্ত্রের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বলিভিয়ার গণমানুষের স্বাধীনতার দাবি ও ব্যক্তিস্বার্থের ওপর সংবিধানকে মর্যাদা দিতে সেখানকার সেনাবাহিনী যে ভূমিকা পালন করেছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই।

Sharing is caring!

Loading...
Open