সিসিক মেয়র আরিফের দখল,আদালতের উচ্ছেদ!

আরিফের দখল করা ভূমি মালিককে ফিরিয়ে দিলো আদালত।আদালতের নির্দেশে সিসিক নিজেদের দখল ছেড়ে মালিকের হাতে তুলে দিলো ৩৭ শতক ভূমি।সিলেট নগরীর শেখঘাট খুলিয়াপাড়ার সেই ৩৭ শতক মূল্যবান ভূমি আদালতের হস্তক্ষেপে ফিরে পেলেন মালিক সফিউর রহমান চৌধুরীর উত্তরাধিকারীরা।

সোমবার সকালে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত শন্তু ও সিসিকের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ভূমির মালিক সফিউর রহমান চৌধুরীর উত্তরাধিকারীদের নিকট সবকিছু বুজিয়ে দেন।

গত ২১ জুলাই সিসিকের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ভূমিটুকু সিসিকের মালিকানাধীন এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে দাবী করে দখলে নেন। সেই সাথে সিসিকের সাইনবোর্ড ও লাগিয়ে দেন তিনি । নগরীর এমন অনেক ভূমিই দখল করছেন সিসিক মেয়র । সিসিকের নামে দখল করা ভূমি-পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি লীজ প্রদান করে, সেই প্রতিষ্ঠান থেকে আরিফ অবৈধ সুবিধা নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ আছে।

ভূমির মালিক মরহুম সফিউর রহমান চৌধুরীর পুত্র হুমায়ুন কবির চৌধুরী জানান, নগরীর ১৩নং ওয়ার্ডের শেখঘাট খুলিয়াপাড়া মিউনিসিপ্যালিটি মৌজার জে এল নং- ৯১ এর ৩৭৫১ ও ৩৭৫২ নং দাগে মোট ৩৭ শতক জমির প্রকৃত মালিক তারা । তার পিতার ক্রয়সূত্রে প্রকৃত উত্তরাধিকারী হিসেবে তারা সেটা ভোগদখল করে আসছেন ।

তিনি বলেন, ১৯২৮ ইং সালে জনৈক যুগেশ ব্যানার্জী তৎকালীন মিউনিসিপ্যালিটি থেকে ২০ বছরের জন্য এ ভূমি লীজ আনেন। যুগেশ ব্যানার্জী মারা যাওয়ার পর এর উত্তরাধিকারী হন তার ছেলে সুধাংশু ব্যানার্জী ।

১৯৪৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার টাউন ট্যালেন্স অ্যাক্ট ঘোষণা করে । এ আইনে বলা হয় যে যেখানে আছেন তিনি ঐ ভূমির মালিক। ফলে সুধাংশু ব্যানার্জী আইণগতভাবে মালিকানা লাভ করেন। এই সুধাংশু ব্যানার্জীর নিকট মরহুম সফিউর রহমান চৌধুরীর ৫ হাজার টাকা পাওনা ছিল । দেশ ভাগ হওযার পর সুধাংশু ব্যানার্জী ভারতে চলে যান। পরে টাকা চেয়ে সফিউর রহমান চৌধুরী চিঠি লিখেন সুধাংশুর নিকট। সুধাংশু ফিরতি চিঠিতে উল্লেখ করেন, তিনি টাকা দিতে না পারলে দেশে যে জায়গাটুকু আছে তা সফিউর রহমান চৌধুরীকে দিয়ে দেবেন ।এর পর থেকে সুধাংশু দেশে আসেনননি ।

এমতাবস্থায় সফিউর রহমান চৌধুরী এ চিঠিসহ ১৯৪৯ সালে ভারতের আদালতে মামলা দায়ের করেন । চার বছর পর ১৯৫৩ সালে আদালত সফিউর রহমান চৌধুরীকে ভূমি সমজিয়ে দিতে রায় দেয় । এ রায়ের প্রেক্ষিতে তৎকালীন সময়ে চট্রগ্রাম থেকে কমিশন এসে রেকর্ড সমজিয়ে দেয় । পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে ভূমিটুকু সফিউর রহমান চৌধুরীর নামে রেকর্ড হয় ।
সিসিক মেয়র আরিফুল হক ভূমি সিসিকের দখলে নেয়ার পর সফিউর রহমানের পক্ষে আদালতে দখল উচ্ছেদের মামলা করা হয় । এ মামলার প্রেক্ষিতে আদালত প্রকৃত মালিককে ভূমি ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করে ।

Sharing is caring!

Loading...
Open