‘সিলেটে সাঙ্গ হলো রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরনোৎসব’

নিজস্ব প্রতিবেদক :: শুক্রবার (৮ই নভেম্বর) বিকেল ছিল সিলেটবাসীর জন্য স্মরণীয় সময়। চার দিনব্যাপী চলা ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরনোৎসব’ এর সমাপনী দিন ছিল কাল। রবিঠাকুরের অমর শিশুতোষ কবিতা ‘বীরপুরুষ’ আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন সিলেটের শিশু শিল্পীরা। পরে একে একে সম্মিলিত আবৃত্তি, সংগীতের মোহনীয়তায় মজেন উপস্থিত দর্শকরা। অনুষ্ঠান যত গড়িয়েছে দর্শক সমাগম ততই বেড়েছে। একটা সময় তিল ধারণের মত জায়গা ছিলনা সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে, দর্শক সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে নিরাপত্তা রক্ষী ও স্বেচ্ছাসেবকদের। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশের রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, লাইসা আহমেদ লিসা, ড. অনুপম কুমার পাল, ড. অসীম দত্ত, আমিনুল ইসলাম লিটন এবং ভারতের মেধা বন্দ্যোপাধ্যায়, পদ্মশ্রী পূর্ণদাস বাউল ও অগ্নিভ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ খ্যাতিমান শিল্পীরা। বাঙালির দ্রোহে, নান্দনিক উচ্ছ্বাসে রবীন্দ্রনাথ অপরিহার্য মানব। শ্রীহট্ট তথা সিলেটের সাথে রবীন্দ্রনাথ ও জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সম্পর্কের গভীরতা অতলস্পর্শী। শতবর্ষ পূর্বে বিশ্বকবি এসেছিলেন শ্রীভূমে। শতাব্দির কালপটে দাঁড়িয়ে তাই আয়োজন করা হয় ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ: শতবর্ষ স্মরণোৎসব’। এই স্মরণোৎসবের সমাপনীতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

গত ১লা নভেম্বর থেকে সিলেটে রবীন্দ্র স্মরণোৎসব চলছিল। তবে মূলপর্ব শুরু হয় গতকাল বৃহস্পতিবার। রবীন্দ্রনাথকে মন ও মননে ধারণের আবাহনে আজ শুক্রবার রাতে শেষ হচ্ছে এই স্মরণোৎসব।

আজ বিকাল ৪টায় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় রবীন্দ্র স্মরণোৎসবের শেষ দিনের অনুষ্ঠানমালা। এরপর ছিল একক ও সম্মেলক আবৃত্তি, নৃত্য, সঙ্গীত ও আলোচনা প্রভৃতি। আলোচনা পর্বে রবীন্দ্র স্মরণোৎসব পর্ষদের আহবায়ক ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সিলেটের সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটে প্রায় তিন বছর আগে বেঙ্গল উৎসব হয়েছিল। এবার রবীন্দ্রনাথ স্মরণোৎসব হলো, যা সিলেটের সর্ববৃহৎ উৎসব। সিলেট সবসময়ই আলাদা। শতবর্ষ পূর্বে রবীন্দ্রনাথ যখন সিলেটে আসেন, তখন তাকে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সবাই স্বাগত জানায়। শতবর্ষ পরে হিন্দু, মুসলিম সবাই একাত্ম হয়ে রবীন্দ্র স্মরণোৎসবকে সফল করেছেন।’ সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, সিলেটে একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার দাবি ওঠেছে। এতে আমাদের দ্বিমত নেই। সিলেটের মেয়র যদি একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে পাঠান, তবে তা অনুমোদন পেতে পারে। যেহেতু সিলেট থেকে পরিকল্পনামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, তারা এ বিষয়টি নিশ্চয়ই দেখবেন।পরে সাবেক অর্থমন্ত্রী ও অনুষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবুল মাল আব্দুল মুহিত উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open