ফুল দিয়ে যোগ দেওয়া প্রবেশকারীর ব্যাপারেও হার্ডলাইনে আ’লীগ

দলে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা প্রস্তুত করেছে আওয়ামী লীগ। সেই সাথে বিভিন্ন সময়ে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া প্রবেশকারীদের ব্যাপারেও হার্ডলাইনে রয়েছে আওয়ামী লীগ। সারাদেশ জোড়ে একটি খসড়া তালিকার পর যাছাই বাছাই শেষে অনুপ্রবেশকারী এবং প্রবেশ কারীদের নামের একটি তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দলে যুক্ত থাকা প্রবেশ-অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা যাছাই-বাছাই শেষে নামও চুড়ান্ত করা হয়েছে। তালিকা সম্পন্নের পর সারাদেশের মতো সিলেটে প্রবেশ- অনুপ্রবেশ কারীদের তালকাও চুড়ান্ত করা হয়েছে। রোববারের মধ্যেই এই তালিকা সিলেটে পৌছে যাবে-এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলের কেন্দ্রীয় একটি সূত্র।

আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতেই যেন বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা স্থান না পায় সেজন্য তালিকাটি করা হয়েছে। তালিকাটি কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলায় জেলায় নেতাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের । রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমন্ডলীর সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নেত্রী তার নিজস্ব কিছু লোক এবং গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট মিলিয়ে একটি তালিকা তৈরি করে পার্টি অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমি নিজেও আমার জেলার নেতাদের সাথে সেই বিতর্কিত তালিকা নিয়ে কথা বলেছি। আমরা এই ব্যাপারে সতর্ক, যাতে সেই তালিকায় থাকা বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারী কাউন্সিলে কোনো ধরনের জায়গা না পায়।

তিনি বলেন, বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি যাতে বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মেলনে বা কমিটিতে স্থান না পায়, সেজন্য আমরা সতর্ক রয়েছি। নেতাকর্মীদের সেভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন জেলা ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি করার নির্দেশনার কথা জানান ওবায়দুল কাদের। গঠনতন্ত্রে যেভাবে কমিটি করার দিক নির্দেশনা আছে সে অনুযায়ী কমিটি করতে হবে। এ ব্যাপারে জেলা পর্যায়ের নেতাদের কাছে নির্দেশনা যাবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ দফতর ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী প্রমুখ।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সিলেটের ১৩ উপজেলার বেশ কয়েকটিতে অনুপ্রবেশ এবং প্রবেশকারী রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে এদের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে অনুপ্রবেশ-প্রবেশকারীদের মাধ্যমেই দলে বিভাজন এবং কোন্দল ব্যাপক আকার ধারণ করে-এমন মন্তব্য করেছেন তৃণমূলের দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তত্বাবধানে কাজটি হচ্ছে-এমন সংবাদে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা জেগে উঠেছে। ভাইরাস এবং অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে দলকে মুক্ত করতে দলীর সভানেত্রীর এমন উদ্যোগকে আওয়ামী রাজনীতির যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন তারা।

অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা (সিলেট জেলা) কেন্দ্র থেকে প্রাপ্তির সত্যতা জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী বলেন, তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে হয়তো আমাদের হাতে পৌছতে পারে। তিনি বলেন, দলকে পুনুরুজ্জীবিত করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনুপ্রবেশকারীরা দলের জন্য হুমকী এবং এদের হাতে সংগঠনের আদর্শ ও দলীয় শৃঙ্খলা বিরাট ঝুঁকিতে পরে।

Sharing is caring!

Loading...
Open