হতাশার সময়ে স্বাগতিকদের হারিয়ে আশাজাগানিয়া জয়

যখন বাংলাদেশের ক্রিকেটে হতাশার সময় চলছিল তখনই দিল্লিতে ভারতের মাটিতে স্বাগতিকদের হারিয়ে আশাজাগানিয়া জয় পেল বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ১০০০তম ম্যাচে দিল্লিতে স্বাগতিক ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ছক্কায় জয়ের হাসি হেসেছে বাংলাদেশ। সাকিব-তামিম ছাড়াই দিল্লি জয় করেছে টাইগাররা। টি-২০ ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে তুলে নিয়েছে প্রথম জয়।

ঐতিহাসিক এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। দিল্লিতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আগে বোলিং করে ভারতকে ১৪৮ রানে আটকে দিয়েছিলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। তাই ভারতের মাঠে ভারতকে হারিয়ে দিতে লক্ষ্যটা থাকে নাগালের মধ্যেই।

বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই লিটনকে হারায়। দীপক চাহারের করা ওভারের পঞ্চম বলে কাভার পয়েন্টে রাহুলের হাতে ক্যাচ হন তিনি। ফেরার আগে তিনি করেন ৪ বলে ৭ রান।

এরপর ৪৬ রানের জুটি গড়েন নাঈম শেখ ও সৌম্য সরকার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমে দারুণ ব্যাট করতে থাকেন নাঈম। কিন্তু ইনিংসকে বড় করতে পারেননি তিনি। ২৮ বলে ২৬ রান করে ফিরে যেতে হয় তাকে। অষ্টম ওভারে চাহালের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং-অনে ধাওয়ানের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

দলীয় ৫৪ রানে দুই উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মুশফিক ও সৌম্য দলকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন। দুজনে মিলে ৬০ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ১১৪ রানে খলিল আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে যান সৌম্য। ৩৫ বলে একটি চার ও দুইটি ছক্কার সাহায্যে ৩৯ রান করেন তিনি। ভাঙে ৬০ রানের জুটি।

পরে যুজবেন্দ্র চেহেলের বলে স্লগ সুইপ করেছিলেন মুশফিক। মারে জোর ছিল না যথেষ্ট। বল যায় মিড উইকেট সীমানায় ক্রুনাল পান্ডিয়ার কাছে। সহজ ক্যাচ। কিন্তু পান্ডিয়ার হাত গলে বেরিয়ে গেল বল, মাটি ছুঁয়ে বল গেল সীমানার বাইরে। ৩৮ রানে বেঁচে গেলেন মুশফিক। সেই মুশফিকই বাকিটা করেছেন দুর্বার গতিতে। বাকিটা শেষ করে অপরাজিত থেকেছেন ৪৩ বলে ৬০ রান করে।

মাহমুদউল্লাহ অবদান রেখেছেন ফিনিংস টাচের। তার ১ চার আর ১ ছক্কায় ৭ বলে ১৫ রানের ইনিংসটা গুরুত্বের বিচারে অপরিসীম।

এরআগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৮ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক ভারত। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন শিখর ধাওয়ান। প্যান্টের ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। ১৩ বলে ২২ করেন আয়ার। শেষদিকে ৮ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন ক্রুনাল পান্ডিয়া। ৫ বলে ১৪ করে অপরাজিত থাকেন ওয়াশিংটন সুন্দর।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ১১ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন আফিফ হোসেন। ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন আমিনুল ইসলাম। শফিউল ইসলামও নেন ২টি উইকেট।

ভারতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন পেসার শফিউল ইসলাম। ওভারের শেষ বলে ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মাকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি রোহিত। ফেরার আগে ৫ বলে ৯ রান করেন ভারতীয় অধিনায়ক।

এরপর ধাওয়ানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন লোকেশ রাহুল। ২৬ রানের জুটি গড়েন তারা। লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম ব্প্লিব ভাঙেন এই জুটি। ইনিংসের সপ্তম ওভারের প্রথমবারের মতো বোলিংয়ে আসেন বিপ্লব। ওভারের তৃতীয় বলে শর্ট কাভারে রিয়াদের হাতে ক্যাচ হন রাহুল। তিনি করেন ১৭ বলে ১৫ রান।

রাহুল ফিরে যাওয়ার পর শ্রেয়াস আয়ার নেমে মেরে খেলছিলেন। কিন্তু আয়ারকে বেশিদূর যেতে দেননি আমিনুল। ১১তম ওভারে তার বলে লং-অফে নাঈম শেখের হাতে ক্যাচ হন আয়ার। ১৩ বলে ২২ রান করেন তিনি।

অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যানদের আউট করতে পারলেও ওপেনিংয়ে নেমে ক্রিজে অটুট ছিলেন শিখর ধাওয়ান। ১৫তম ওভারে এই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরায় টাইগাররা। রিয়াদের করা এই ওভারের পঞ্চম বলে মিডউইকেটে খেলেছিলেন প্যান্ট। স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেই একবারের জন্য প্রান্ত বদল করেন প্যান্ট ও ধাওয়ান।

কিন্তু দ্বিতীয় রান নেয়ার সময় রিয়াদ দ্রুত থ্রো করেন মুশফিকের কাছে। আর মুশফিক ক্ষিপ্র গতিতে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন। তৃতীয় আম্পায়ারের সাহায্য নেন ফিল্ড আম্পায়ার। দেখা যায় ধাওয়ান ক্রিজে পৌঁছানোর অনেক আগেই স্ট্যাম্প ভাঙেন মুশফিক। ৪২ বলে ৪১ রান করেন ধাওয়ান। এর পরের ওভারেই বোলার আফিফের হাতে ক্যাচ তুলে দেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা শিভম দুবে।

১৯তম ওভারে বোলিংয়ে এসে রিশাব প্যান্টকে বিদায় করেন শফিউল। সীমানার কাছে নাঈমের হাতে ক্যাচ হন তিনি। ২৬ বলে তিনটি চারের সাহায্যে ২৭ রান করেন প্যান্ট।

Sharing is caring!

Loading...
Open