বিশ্বনাথে তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ, ৯দিন পর মামলা নিল পুলিশ!

সুরমাটাইমস ডেস্ক :: সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৮ বছরের এক তরুণীকে বাড়ি থেকে পালিয়ে নিয়ে ১০ দিন আটক রেখে ধর্ষণ করেছে এক যুবক। ধর্ষিত তরুণী উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের নওধার বৈরাগীরগাঁও গ্রামের হতদরিদ্র একজন দিন মজুরের মেয়ে। ধর্ষক হাবিব আলী মিঠু (২৪) একই উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের কোনাউড়া নোয়াগাঁও গ্রামের মনোহর আলীর ছেলে।

এঘটনায় দিনমজুর যুবতীর বাবা সফিক আলী বাদী হয়ে অভিযুক্ত হাবিব আলী মিঠুকে প্রধান আসামি করে ৪জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং- ২৩।

এর আগে গত ২০অক্টোবর আসামি মিঠুসহ ধর্ষিতাকে থানায় হাজির করা হলেও রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পরে বিষয়টি টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দিতে একটি কুচক্রীমহল অপচেষ্টায় ব্যর্থ হলে আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার ৯দিন অতিবাহিত হওয়ার পর নিজেদের গা বাঁচাতে ২৯অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে মামলা নিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

জানাযায়, গত ১১অক্টোবর দুপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে বাড়ি থেকে পালিয়ে নেয় ধর্ষক হাবিব আলী মিঠুু। পালিয়ে নিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ১০দিন তার বাড়িতে একটি নির্জন ঘরে রেখে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পরিবারের লোকজন মেয়েকে খোঁজে না পাওয়ায় নিখোঁজের ৭দিন পর ১৮অক্টোবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা। ডায়েরি নং-১০০০। ওই সাধারণ ডয়েরী করার পরদিন ১৯অক্টোবর ধর্ষক মিঠু’র বাড়িতে যান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নবী হোসেন। তদন্ত কর্মকর্তা হুমকি দিয়ে যাওয়ার পরদিন ২০অক্টোবর ওই কিশোরীকে সাথে নিয়ে থানায় হাজির হন মিঠুু’ ও তার পরিবারের লোকজন। সেখানে বিয়ের ব্যপারে ব্যাপক আলোচনা হলে মেয়ে গরীব বলে এই প্রস্তাবে রাজি হননি মিঠুু’র পরিবারের লোকজন। এসময় স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর ধর্ষক মিঠুু’র পক্ষে কথা বলে বিয়ের আশ^াস দেন। আর ওই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ মুছলেকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। থানা থেকে ছাড় পেয়ে ধর্ষক মিঠুু’র পক্ষের মাতব্বররা বিয়ের কথা পাল্টিয়ে ১লাখ ১০হাজার টাকা দিয়ে নিস্পত্তির প্রস্তাব করেন। দীর্ঘ ৯দিন এমন নাটকিয়তা চললে বিষয়টি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। লোকমুখে জানাজানি হলে অনেকটা বিপাকে পড়ে ২৯অক্টোবর রাতে মামলা নিতে বাধ্য হয় পুলিশ। মামলা নিলেও আসামি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই নবী হোসেন। বুধবার ওই কিশোরীকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি’তে ভর্তি করার জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

এব্যাপারে জানতে চাইলে থানার ওসি শামীম মূসা বলেন, ২০ অক্টোবর আসামি হাবিবুর রহমান মিঠুু থানায় হাজির হয়নি। সেদিন ভিকটিমকে সাথে নিয়ে থানায় শুধু তার বাবা হাজির ছিলেন। তবে আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open