টর্চার সেলের সংস্কৃতি কবে থেকে ?

ইদানীং টর্চার সেল নিয়ে খুবই শোরগোল হচ্ছে কিন্তু এই নির্মম নির্যাতনের ধারাবাহিকতা বহুদিনের সংস্কৃতি। ছাত্রলীগের টর্চার সেল নিয়ে আতঙ্কের শেষ নেই। সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর টর্চার সেল সম্পর্কে আমাদের ব্যাপক ধারণা ছিল কিন্তু ছাত্রলীগ যে এত দূর এগোবে তার সামান্যতম ধারণা বোধ হয় আওয়ামী লীগের ছিল বলে মনে হয় না। আর যদি থেকেও থাকে তাহলে এ খবর শেখ হাসিনার কান প্রর্যন্ত পৌঁছায়নি কেন? হয়তবা, অদৃশ্য বলয় এর ক্ষমতার দাপটে। সুশীল সমাজে প্রশ্ন উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কী ছাত্রলীগের টর্চার সেল সম্পর্কে কোন সংবাদ ছিল না? উনার গোয়েন্দা সংস্হা কী খুঁজ খবর রাখে না?

প্রশ্ন জেগেছে ছাত্রলীগ এই নৃংশস টর্চার সেলের আইডিয়া পেল কোথায় থেকে? তারা এত ভয়ংকর কীভাবে হলো। ছাত্রলীগের মত একটা ঐতিহ্যবাহী সংগঠন কেন এই নির্মম পথ বেচে নিল? তারা এত বেপরোয়া কীভাবে হলো? আওয়ামী লীগ কী দায়বার নিবে? না কী কোন সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিবে? হা, কমবেশি সবার কাছে এসব প্রশ্নের উত্তর আছে কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে কেউ ভয়ে আওয়াজ তুলে না। বিএনপির আমলে ছাত্রদল যে ভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করেছে আওয়ামী লীগের আমলে এসে তা আর দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শেরেবাংলা হলের ‘২০১১’ নম্বর কক্ষটি যেখানে একজন নিরহ ছাত্রকে পিঠিয়ে হত্যা করা হয়। শুধু মাত্র বুয়েটে পাচঁটি টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে । এই যদি হয় বুয়েটের অবস্থা তাহলে অন্যসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর চিত্র কী হতে পারে? অবাক হওয়ার বিষয় হলো ছাত্র সংগঠনের নেতারা টর্চার সেলের ধারণা কীভাবে রপ্ত করেছে? ছাত্রদল বলেন আর ছাত্রলীগ বলেন যেই ক্ষমতার স্বাধ পায় তারা হয়ে উঠে অপ্রতিরোধ্য। তাদের এই কৃর্তকর্মের জন্য কী বড়রা দায়ি নয়?

ক্যাসিনো মাফিয়া খালেদের টর্চার সেল সম্পর্কে কিছুদিন আগে আমরা জানি। এমনকি ২০১৩ সালে (র‌্যাব) নারায়ণগঞ্জে অন্তত একটি টর্চার সেল বা নির্যাতন কেন্দ্রের সন্ধান পেয়েছিল যেখানে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে হত্যা করা হয়। তাছাড়া ১২ বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক কক্ষে নির্যাতনের সেল এর উপস্তিতি পাওয়া যাচ্ছে , গত ৫ বছরে বুয়েট ছেড়েছেন নির্যাতিত ৩০ শিক্ষার্থী, জমা পড়েছে ১৬৬ অভিযোগ (দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯). মানবজমিন লিখেছে ‘হলে হলে টর্চার সেল’ঢাকা ( ১৮ অক্টোবর ২০১৯) ।ভয়ংকর সব তত্ত্ব উঠে আসছে।

রাষ্ট্রের শাসন কাঠামোতে যখন গণতন্ত্র চর্চার অনুপস্থিতি দেখা দেয় তখন কিছু কিছু সুবিধাবাদী, চরমপন্থী এবং উগ্রপন্থী মাথাচড়া দিয়ে উঠে। রাজনৈতিক লেবাস ব্যাবহার করে তারা বনে যায় ক্ষমতার অসীম অধিকারী। অবৈধ ক্ষমতার লোভ তাদের ঘাড়ে এতটা চেপে বসে যে তারা কী করছে বা করবে সেই জ্ঞানশক্তি হারিয়ে ফেলে। ফলে তারা বিরুদ্ধ মতালম্বীদের নির্যাতনের জন্য নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে। যার পরিপেক্ষিতে তারা হয়ে উঠে অপ্রতিরোধ্য।

মোঃ হাফিজুর রাহমান
যুক্তরাজ্য প্রবাসী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অনলাইন এক্টিভিষ্ট

Sharing is caring!

Loading...
Open