প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করাই তাদের পেশা

খুলনায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময়ে ‌ওই চক্রের দুই সদস্য পালিয়ে যায়।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০ টার দিকে মহানগরীর লবণচরার থানাধীন মােহাম্মদীয়াপাড়ার আমতলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এময়ে ওই অপহরণের শিকার এক ব্যক্তি উদ্ধার করা হয়। অপহৃত ইয়ামিন শেখ (২৮) বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা এলাকার মােঃ মতি শেখের ছেলে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মােঃ মঞ্জু শেখ (৫০) লবণচরার আমতলা এলাকার নওয়াব আলীর ছেলে, মােঃ রুহুল আমিন গাজী (৪৫) লবণচরার মােহাম্মদীয়াপাড়া বাজার এলাকার সুলতান গাজীর ছেলে, আছিয়া বেগম (৩২) সাতক্ষীরা আটুলিয়া গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী ও নাজমিন (২২) লবনচরার সামসু মাতুব্বরের মিল এলাকার মােক্তার হােসেনের স্ত্রী। পালিয়ে যাওয়া অপহরকারীরা হলেন, মােঃ মােশারফ হােসেন (৬০) ও মােঃ লিটন। তারা লবনচরার মোহাম্মাদিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা।

লবনচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বায়েজীদ আকন জানান, এক মাস আগে অপহৃত ইয়ামিনের সাথে অপহরকারী নাজমিনের পরিচয় হয়। তারা নাজমিনকে দিয়ে ফাঁদ পেতে ইয়ামিনকে অপহরণ করে মুক্তিপন আদায়ের পরিকল্পনা করে। পরে ১৬ অক্টোবর ইয়ামিনকে বাগেরহাট রামপাল থেকে ফুঁসলিয়ে মােহাম্মদীয়াপাড়ায় আনে। এরপর তারা আমতলা মহিলা মাদ্রাসার একটি পরিত্যাক্ত রুমে নিয়ে হাত বেধে মারধর করে ইয়ামিনের নিকট দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। মুক্তিপন পরিশােধের জন্য ইয়ামিনের আত্মীয়ের নিকট একটি বিকাশ নম্বর প্রদান করে। খবর পেয়ে রাত ১০ তার দিকে গিয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। একই সাথে চার অপহরণকারীকেও গ্রেফতার করতে পেরেছে।

এ সময় ওই চক্রে মােশারফ ও লিটন পলিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা একটি পেশাদার অপহণকারী চক্র। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ নারী দিয়ে বিভিন্ন লােককে ফাঁসিয়ে আটক করে মুক্তিপন আদায় করে আসছে। এ ঘটনায় লবণচরা থানায় সংশিষ্ট আইনে একটি মামলা রুজু করা হইয়াছে বলে জানান ওসি।

Sharing is caring!

Loading...
Open