ওসমানীনগর থানার ওসির বদলিতে ঘুরে গেল মামলা!

ওসমানীনগর প্রতিনিধি:: ওসমানীনগরে বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আল মামুনের বদলির পরই নিরীহ শিক্ষক মাওলানা আব্বাস আলীর বসতঘর উচ্ছেদ ও সাজানো মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় বাদিসহ ৪জনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার রাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি (তদন্ত) দুস্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে তাদের আটক করেন।

আটককৃতরা হচ্ছেন উপজেলার সাজানো মামলার বাদি মিজান এলাহির বাড়ির কেয়ারটেকার তাজ উদ্দিন মাস্টার (৫০), গোয়ালাবাজারের কচবুরাই গ্রামের আছাদ চৌধুরী (৩৫), তাজপুরের কাশিকাপন গ্রামের পারভেজ মিয়া (২৬) এবং রুকনপুর গ্রামের বাবলু মিয়া (২৬)।

এ ঘটনায় সাজানো চাঁদাবাজী মামলায় জেল হাজতে থাকা নিরিহ মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আব্বাস আলীর স্ত্রী পারভিন বেগম বাদি হয়ে আটককৃত ৪ জনসহ ৯জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১০/১২জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে সোমবার দুপুরে শিক্ষক আব্বাস আলীর উচ্ছেদ করা বাড়ি পরিদর্শন করেছেন সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন।

এ সময় তিনি ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ আইনি সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

এছাড়া সোমবার অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রকৃত দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাহমিনা আক্তার।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাইন উদ্দিন আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে অভিযানে নেমে দুস্কৃতিকারীদের আটক করি। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বাকি আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, পূর্ব রুকনপুর গ্রামের নিরিহ গরিব মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আব্বাস আলী লেপাস ও তার চাচাতো ভাই মিজান এলাহির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি বিরোধ চলে আসছিলো। প্রতিপক্ষের ভয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষক পরিবার নিয়ে বাড়ি ছেড়ে তাজপুর বাজারে বসবাস করছিলেন। শুক্রবার মিজান এলাহির ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী ওই গরিব শিক্ষকের বসতঘর উচ্ছেদের জন্য ভাঙচুর শুরু করে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ঘর ভাঙচুরকারী দু’জনকে আটক করে এবং শিক্ষক আব্বাস আলীসহ তার স্বজনদের মামলা দেয়ার কথা বলে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু থানায় এসে অপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে সাজানো চাঁদাবাজী মামলায় ওই গরিব শিক্ষক ও তার স্বজনদের আটকে রাখেন ওসি। পুলিশের সহায়তা নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তার বসতঘর সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করে এবং মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়। রোববার বিকেলে স্থানীয় এলাকাবাসী তাজপুর বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে থানার ওসি ও দুস্কৃতিকারীদের শাস্তির দাবি জানায়।

Sharing is caring!

Loading...
Open