অভিজাত প্রতারণার বিশাল ফাঁদ !

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

আইটি বিশেষজ্ঞ ইল্লাম শাহারিয়ার (৩৭)। নিজেকে পরিচয় দেন তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আইটি বিভাগের ডেপুটি ডাইরেক্টর হিসেবে। এজন্য তৈরী করেছেন ভিজিটিং কার্ড। তার ব্যবহৃত গাড়িতে সাঁটা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ষ্টিকার। গাড়ির ভিতরে রাখা ওয়াকিটকি সেট, এসএসএফ ব্যবহৃত পোষাক ও নকল অস্ত্র। এ অবস্থায় তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই তিনি একজন অভিজাত প্রতারক। বিভিন্নজনকে প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি মোটা অংকের টাকা। অবশেষে ধরা পড়েছেন র‌্যাবের হাতে। প্রতারণার দায়ে তাৎক্ষনিক ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

সূত্র জানায়, গাজীপুরের শিমুলতলী মৌবাগ এলাকার ভাড়া বাসা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় র‌্যাব আটক করেছে প্রতারক ইল্লাম শাহারিয়ারকে। তিনি ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার মো. সাদিক হাসানের ছেলে। আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে হাজির করা হলে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস তিনমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। রাতেই তাকে গাজীপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাব র‌্যাব-১ এর গাজীপুর ক্যাম্পের কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আটক ইল্লাম শাহারিয়ারের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ৩৩ ধরনের সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। যারমধ্যে রয়েছে- নগদ ৬ লাখ টাকা, একটি মাইক্রোবাস,দুটি ওয়াকিটকি সেট, একটি লাইটার ও একটি খেলনা পিস্তল, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি ও এডিশনাল ডাইরেক্টরের আইডি কার্ড, এসএসএফ পরিচালক, সচিব, ব্রিটিশ হাই কমিশনার ও বিভিন্ন ব্যাংকের পনেরটি সীল, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মনোগ্রামের ট্রাকস্যুট, ভিজিটিং কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বইসহ বিভিন্ন সামগ্রী।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ইল্লাম শাহরিয়ার একজন আইটি বিশেষজ্ঞ। পেশার আড়ালে তিনি সর্বসাধারণের কাছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আইটি সেকশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর পরিচয় দেন। নিজ গাড়ীতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বিভিন্ন ষ্টিকার, মনোগ্রাম, ওয়াকি-টকি সেটসহ এসএসএফ এর ব্যবহৃত পোষাক ও ক্যাপ ব্যবহার করে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন। ওই পরিচয়ে তিনি সরকারী কর্মকতা, কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাকুরী, পদোন্নতি, বদলি ও বিদেশে প্রেরণের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। মঙ্গলবার সকালে ১০/১৫ জন ভুক্তভোগী তার গাড়ি আটক করে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে নালিশ জানান। এরপর খবর দেয়া হয় র‌্যাবকে। এ সময় তিনি দরজা বন্ধ করে ঘরে বসে থাকেন। প্রায় ৬ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে র‌্যাব তাকে বাইরে আনতে পারে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার বিষয় স্বীকার করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open