শ্রমিক লীগ অফিসে জুয়ার আসর !

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: আখাউড়া রেলওয়ে শ্রমিক লীগ অফিসে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৬ জুয়াড়িকে। আখাউড়া রেলওয়ে থানা থেকে মাত্র ১০ গজ দূরে জুয়াড়িদের এ আস্তানা এতোদিন সুরক্ষিত ছিল বিশেষ সমঝোতায়। আইনমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আনিসুল হকের বিশেষ নির্দেশনার পরই আকস্মিক অভিযান বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অভিযানে জুয়া খেলার সরঞ্জামাদি ও নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আখাউড়া রেলওয়ে থানা সংলগ্ন রেলওয়ে ক্লাব ও রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কার্যালয়ে নিয়মিতই জুয়ার আসর বসে। রেলওয়ে ক্লাবেই ছিল বড় জুয়ার আসর। যেখানে এলাকার পাশাপাশি দূর-দুরান্ত থেকে জুয়াড়িরা আসতেন। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান ও সারাদেশে অভিযানের কারণে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রেলওয়ে ক্লাবটির জুয়া। তার পাশেই শ্রমিক লীগ অফিসের আড়ালে চলছিল পুরনো কারবার। বুধবার রাত আটটার দিকে আখাউড়া থানা পুলিশ সেটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালায়।
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের আব্দুর রহমান (৪০), হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার রহিজ উদ্দিন (৪০), আখাউড়া দেবগ্রামের শেখ কাজল (৩৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কোড্ডার মো. হুমায়ুন কবির (৪৫), বাবুল ভূইয়া (৫০), জাহাঙ্গীর খলিফা (৫০), আইয়ুব মিয়া (৫৫), সুশেন খলিফা (৫০), চান্দির শফিকুল ইসলাম (৫৫), শ্যামনগরের নির্মল দাস (৩২), সজিব দাস (৩০), খলিলুর রহমান (৫০), ফেণী দাগনভূইয়ার মো. শাহ আলম (৫০), আখাউড়া কুমারপাড়া কলোনীর কাউছার আলী (৫০), অরুণ চন্দ্র দাস (৪২) ও রেলওয়ে কলোনীর নজরুল ইসলাম (৫৭)। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ২৪ হাজার ৪১০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, ‘জুয়ার আসর বিষয়ে খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান চালানোর জন্য আইনমন্ত্রী পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি এটাও বলে দিয়েছেন যেন এ নিয়ে কেউ তদবির না করেন।’

আখাউড়া থানার ওসি মো. রসুল আহমেদ নিজামী ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আরিফুল আমীন জানান, শ্রমিক লীগের অফিসটিতে নিয়মিত জুয়ার আসর বসতো বলে অভিযোগ রয়েছে। সে মোতাবেক তথ্য পেয়ে অভিযান চলে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open