ভারতের আগ্রাসন নিয়ে কথা বলা কী অপরাধ?

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সফলের চেয়ে ব্যার্থতা বেশি। দাদাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে গ্যাস এবং ফেনী নদী পানি দেওয়ার ওয়াদা করলেন, শুধু কী তাই, পাশাপশি এই অনৈতিক চুক্তির বিরুদ্ধে ভিন্নমত পোষণ করার জন্য তফা সরুপ আবরারকে বলী দিলেন। এখান থেকে একটি ম্যাসেজ খুবই ক্লিয়ার সরকারের অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোল নিষেধ। তাহলে কী দেশে বাকস্বাধীনতা নেই?

ভিন্নমত পোষণ বা সরকারের কোন অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করা মানে নিজের বিপদ নিজে তৈরি করা। আসলে বিষয়টা এরকম হয়ে দাড়িয়েছে যে আপনার যদি দেশ প্রেম জাগ্রত হয় তাহলে কোন ভাবেই প্রকাশ করা যাবে না। দেশ কী মগের মুল্লুক? যে কেউ জাহির করবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ব্যাতিত চেতনাবাদী কেউ হতে পারে না।

শোভন-রাব্বানীর পতন কিছুটা আশার আলো জাগিয়ে ছিল। হয়তবা পরিবর্তন আসবে সংগঠনটিতে কিন্তু ছাত্রলীগ তাদের জাতের আবার জানান দিল। কয়লা কষলে যেমন ময়লা যায় না তেমনি ছাত্রলীগের ও কোন পরিবর্তন আসবে না। তারা রক্তের নেশায় উম্মাদ পাগলা কুকুর।

ছাত্রলীগ হচ্ছে চেতনাবাদী কুকুর যাদের ঘেউ ঘেউ চিৎকারে সারা দেশ কম্পিত। তাদের খুব ক্ষিদে পেয়েছে, রক্তের প্রয়োজন। সানীর পর আবরার, আর কত? দেশ সেরা বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট এখানে মেধাবীদের বিচরণ। অতচ এই পবিত্র শিক্ষাঅঙ্গনে ছাত্রলীগের পদচারণ কলুষিত করেছে বুয়েটের বাতাসকে।

দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজুক অবস্থা। একমাত্র কারণ ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্য, চাদাবাঁজী, দুর্নীতি, খুন ও ধর্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করছে। ফলে মেধাবীরা থাকেন সর্বদা আতঙ্কে। যার সর্বোশেষ সংযোজন আবরার ফাহাদ হত্যা। আবরারের বাবা কী সুষ্ঠু বিচার পাবেন?

আবরার ফাহাদকে কেন নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? ভারতের আগ্রাসন নিয়ে কথা বলা কী অপরাধ? কোন আইনের উপর ভিত্তি করে আবরারকে মারা হলো? ছাত্রলীগ এত সাহস পেল কোথায় থেকে? মানুষ মারার অধিকার তাদের কে দিল? বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারকে হত্যা করেছে তারই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নামধারী পশুরা।

ভারতীয় দাদাদের পানি বন্টন নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে ছাত্রলীগের হাতে আবরারকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ছাত্রলীগ কী দাদাদের ‘র’ এজেন্ট? ছাত্রলীগ কী মানুষ হত্যার কন্টাক্টদারী প্রতিষ্ঠান ? আবরার দেশকে ভালবাসে বলে দেশ নিয়ে কথা বলেছে।আবরারের রক্তে দেশ প্রেম ছিল বলেই অনৈতিক পানিচুক্তির প্রতিবাদ করেছে। বাংলাদেশের বাকস্বাধীনতাকে গলা চেপে ধরা হয়েছে।আবরার হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ছাত্রলীগই আবরারকে হত্যা করেছে তা এখন স্পষ্ট। আবরারের ফেইসবুক স্যাস্ট্যাস পড়েছি, সে ত সত্যি কথা বলেছে। সাম্প্রতিক প্রাধান মন্ত্রীর ভারত সফর আমাদের দেশের জন্য কতটা সুফল বয়ে এনেছে তা দেশের মানুষের মুখে মুখে। ভারত কী কখনো আমাদের ন্যায্য হিস্যা দিয়েছে ? তিস্তাকে অন্ধকারে রেখে ফেনী নদী পানি ভারতের হাতে তুলে দেওয়া দাদাদের তোষামোদ মাত্র।

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে ভারতের সঙ্গে যে  গঙ্গা পানিচুক্তি হয়েছিল তাতে ভারত বাংলাদেশকে প্রতিবছর ৩৫ হাজার কিউসেক পানি দেওয়ার কথা যা কখনোই বাংলাদেশ পায়নি। বরং আমরা লক্ষ্য করেছি মাত্র দেড় হাজার কিউসেক পানি পেয়েছে বাংলাদেশ। তাহলে পানিচুক্তির গ্রহণযোগ্যতা কোথায়? বাংলাদেশ কী কখনো আন্তজাতিক ফোরামে পানির হিস্যা নিয়ে দাবি তুলেছিল? হায়রে…বন্ধুরাষ্ট্র। তবে আশ্বর্যের ব্যাপার হলো নদী নিয়ে আমাদের দু-দেশের মধ্য যত সমস্যা পৃথিবীর আর কোথায় আছে বলে আমার জানা নেই। খুবই মর্মাহত হয়েছি স্বাধীন মতামত পোষণ করার জন্য এক মেধাবী ছাত্রকে এভাবে জীবন দিতে হলো। আমাদের আতংক আর তীব্রতর করেছে।

মোঃ হাফিজুর রাহমান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অনলাইন এক্টিভিষ্ট

Sharing is caring!

Loading...
Open