ওসমানী মেডিকেলে বেসামাল দুর্নীতি-টাকায় মিলে রোগীর সিট!


আহমেদ শাকিলঃ সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর পাশেই খালি সিট পড়ে রয়েছে।কিন্তু গরীব রোগীদের কপালে তা জুটছেনা।সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলছে এমন অবস্থা।

সিট খালি থাকলেও রোগীকে ফ্লোরে, খালি সিটের নিচে আশ্রয় নিতে হয়। অবশ্য, টাকা দিলে সিট পাওয়া এবং তড়িৎ গতিতে চিকিৎসা পাওয়া যায়। এসব দেখার যেন কোন কর্তৃপক্ষ নেই এখানে। অথচ, সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বৃহওর সিলেটের সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র সরকারী বৃহত্তম স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান।

গোঠা জেলার অসুস্থ গরীব-দুঃখী মানুষের এটাই শেষ আশ্রয় স্থল,এই ওসমানী হাসপাতাল।সিলেট জেলার নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন রোগীরা আসে চিকিৎসা সেবা নিতে। কিন্তু রোগীদের এবং তাদের স্বজনদের এখানে এসে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা ও হয়রানির শিকার হতে হয়। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,৩ তলার ১১ নাম্বার ওয়ার্ডে রোগীদের আর্তচিৎকার।

ডাক্তার এবং নার্সদের অবহেলার মধ্য দিয়েই চলছে তাদের চিকিৎসা।পাশেই খালি সিট পড়ে রয়েছে।কিন্তু গরীব রোগীদের কপালে তা জুটছেনা।২/৩ জন রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়কে ১০০০/৫০০ টাকা দিতে পারলেই পাওয়া যাবে সিট।ভুক্তভোগী একাদিক রোগী জানান, এখানে ওয়ার্ড বয়রা! এরাই নাকি এখানে ডাক্তারদের থেকে বড়।এদের কথা মতই রোগীদের চলতে হয়। সিলেটের চার জেলার উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্র ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বর্তমানে এটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হলেও রোগির চিকিৎসা ব্যবস্থায় নানা বিপত্তির উন্নতি ঘটেনি। কমেনি দালালের দৌরাত্ম।

রোগীতে ঠাঁসা হাসপাতালে প্রবেশ থেকে শুরু করে সিট পাওয়া, সেবা পাওয়ার নামে চলছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি।সিলেটের চার জেলার কোটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবার সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

হাসপাতালে রয়েছে আউটডোর সেবা সম্প্রসারণের লক্ষে ১০ তলা ভবন নির্মাণ,আইসিইউ বিভাগ, নতুন ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ, জরুরী বিভাগকে নতুনরূপে সম্প্রসারণ, হাসপাতালে নতুন একটি ওয়ার্ড চালু, ক্যান্সার চিকিৎসায় অত্যাধুনিক কোবাল্ট-৬০ মেশিন স্থাপন, এইচআইভি ও এইডস রোগের চিকিৎসায় বিশেষ ব্যবস্থা, শিশু ও নবজাতকের চিকিৎসাসেবায় নতুন এনআইসিইউ বিভাগ, অটিজম সেল, বিরল রোগ প্রজেরিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ,টিবি রোগীদের জন্য জেনে এক্সপার্ট মেশিন, এআরটি সেন্টার, নতুন এন্ডোক্রাইনোলজি ওয়ার্ড, হাসপাতালকে সিসিটিভির আওতায় আনা,ক্লাবফুট সেন্টার,বার্ণ ইউনিট, টেলিমেডিসিন সেন্টার চালুসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু থাকলেও এসবের সুযোগ-সুবিধা নিতে লাগে দালালদের খুশি করা।

সাধারণ মানুষের আস্থার এই হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অনাস্থা এসে ভর করছে। দালালচক্রের দৌরাত্মের কারণে রোগিরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়।দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি নাম মাত্র বেতনে এসব নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করে। ৪লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে দুই বছরের জন্য একেকজন নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ পায় বলেও অভিযোগ আছে। বেতন কম হওয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তারক্ষীরা টাকা হাতিয়ে নিতে চাাঁদাবাজির আশ্রয়ে নেয়।হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর স্বজনদের ঢোকার পথে তাদরে কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়।

হাসপাতালের ভেতরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঢুকতে চাইলেও নিরাপত্তারক্ষীদের ২০ থেকে ৫০ টাকা দিতে হয়। এছাড়া নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে হাসপাতালে অবস্থানকারী দালাল চক্রের যোগসূত্র রয়েছে। দালালচক্রের হাতে রোগি হয়রানি ঘটে।

শহরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল,অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের দালাল, এমনকি কতিপয় বেসরকারি ক্লিনিকের দালালরাও ওসমানী হাসপাতালে ঘুর ঘুর করে।দালাল ছাড়া যেন চিকিৎসা ব্যবস্থাই অচল।ওসমানী হাসপাতালের উপপরিচালক এক কর্মকর্তা, বলেন‘হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষীদের চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিষয়টি মিথ্যা নয়। এরা টাকা ছাড়া রোগীর স্বজনদের ঢুকতে দেয় না অভিযোগ আসে প্রায়ই। আমরা অভিযুক্তদের বরখাস্তও করি। তবে ওই স্থানে নতুন যে আসে, সে-ও একই রকম হয়ে যায়।

Sharing is caring!

Loading...
Open