আগামী বছর ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিতে হবে না টিউশন ফি

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক-পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিতে হবে না টিউশন ফি। সরকার পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গতকাল বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করবে। এর অংশ হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে। সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে (এসইডিপি) এই টিউশন ফি খাতে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কত টাকা লাগবে, কত প্রতিষ্ঠান ও কত শিক্ষার্থী রয়েছে তার হিসাব করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

তিনি বলেন, একবারে এত টাকা অর্থ বিভাগ দিতে চাইবে না। পর্যায়ক্রমে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে ষষ্ট শ্রেণির সব শিক্ষার্থীর টিউশন ফি সরকার দেবে।

সেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিষয়টি চূড়ান্ত হলে ষষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন দেয়া শুরু হবে। তবে, অন্যান্য ফি শিক্ষার্থীদেরই দিতে হবে।

তিনি বলেন, জানুয়ারি থেকে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত করতে সময় লাগবে।

আবদুল মান্নান বলেন, গ্রামের অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা টিউশন ফি বেশির কারণে তাদের পছন্দের স্কুলে সন্তানকে পড়াতে পারেন না।

টিউশন ফি দেয়ার দরকার না হলে শিক্ষার্থীরা পছন্দমতো বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে পারবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও গুণগত মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়ার কর্মসূচি হাতে নেয়া হয় অনেক আগেই। সর্বশেষ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম টাকায় দুপুরের খাবার কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের ১৪টি বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কর্মসূচি চালু করতে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জানুয়ারিতে শুরু করা না গেলেও ২০২০ সালের মধ্যেই শুরু করবে সরকার। এর আগেও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীর টিউশন ফি দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশে শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রায় ২৩ লাখ ৬৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে এসব শিক্ষার্থী বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ পাবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close