বিশ্বনাথে সহকারি শিক্ষক নিয়োগ : উত্তীর্ণ ১৬৮ জনের ৫৬ জনই বহিরাগত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বিশ্বনাথ উপজেলা থেকে উত্তীর্ণ ১৬৮ জনের ৫৬ জনই বহিরাগত বলে অভিযোগ ওঠেছে। বিশ্বনাথের ভুয়া ঠিকানা দেখিয়ে তারা নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন বলে জানা গেছে।

২০১৬ সালেও বিশ্বনাথে একই অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিলো। বহিরাগত অনেকে বিশ্বনাথের ঠিকানা ব্যবহার করে সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগ ওঠেছিলো সে বছর।প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে স্ব স্ব উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার বিধান রয়েছে। এমন অভিযোগ এনে ও বহিরাগতদের চূড়ান্ত নিয়োগ না দেয়ার দাবিতে রোববার স্থানীয় সাংসদ মোকাব্বির খানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি সভা শেষে এমপি মোকাব্বির খানের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২৪ সেপ্টেম্বরের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বিশ্বনাথের উত্তীর্ণ ১৬৮ জনের মধ্যে ৫৬জনই বহিরাগত। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ওই ৫৬ জনের নাম ও রোল নাম্বার স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন উপজেলার সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকরা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের প্রাথমিকে সহকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা গত ২৪ মে অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার ফলাফল বের হলে দেখা যায়, প্রাথমিকভাবে বিশ্বনাথ উপজেলার ১৬৮ জন উত্তীর্ণ হন।

এর মধ্যে ৫৬ জনই বিশ্বনাথের স্থায়ী নাগরিক নন। এছাড়া আরও যাচাই বাছাই ও সঠিক তদন্ত হলে ৭০-৮০ জন জনকে পাওয়া যাবে যারা জালিয়াতি করে ভুয়া নাগরিক সনদ সংগ্রহ করেছেন। আগামী ১২ থেকে ২৬ অক্টোবর তারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিবেন। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হবেন। তাই যাচাই বাছাই ও সঠিক তদন্ত করে ভুয়া সনদে আবেদনকারী

বহিরাগতদের উপজেলা কোটায় সহকারি শিক্ষক নিয়োগ না দেয়া ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ বায়েজিদ খান স্মারকলিপি গ্রহণ করে বলেন, ইতিমধ্যে কাগজপত্র যাচাই করে ভুয়া সনদে আবেদনকারী ৩ জনকে বাতিল করা হয়েছে। বাকিদেরও যাচাই বাছাই করা হবে।

তবে, তিনি ইউনিয়ন নাগরিক সনদ দিতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সতর্ক থাকা ও যাচাই-বাছাই করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।সিলেটের সহকারী জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোছা. শারমিন সুলতানা অভিযোগটি গ্রহণ করে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় পৃথক পৃথক কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোসাদ্দিক হোসেন সাজুল, সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম আলম খায়ের,বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রোহেল উদ্দিন,যুগ্ম-সম্পাদক নবীন সোহেল,সদস্য কামাল মুন্না,প্রেসক্লাব অপরাংশের সাধারণ সম্পাদক প্রণঞ্জয় বৈদ্য অপু ও ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম শফিক।

প্রসঙ্গত,২০১৮ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত(২০১৪ সালের স্থগিতকৃত) সহকারী শিক্ষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ৭৬ জনের মধ্যে ২ ও ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষায় ২৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।

বহিরাগতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মৌখিক পরীক্ষা হওয়ার সাথে সাথেই সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার,জেলা প্রশাসক,জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা,বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক তদন্ত কমিটির তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরকে বাতিল করা হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open