হার্ডলাইনে প্রশাসন রোডম্যাপ তৈরি : এবার অভিযান সিলেটে

সিলেটে সরব হচ্ছে প্রশাসন। রাজধানীতে কয়েকটি ক্যাসিনোতে অভিযানের পর দৃষ্টি এখন সিলেটের দিকে।এরই মধ্যে সিলেটে চলমান কয়েকটি ক্যাসিনো আস্তানায় অভিযানের তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে।তবে প্রশাসনের লোকজন বলছে-সিলেটের এই ক্যাসিনোগুলো রাজধানীর মতো নয়। এখানে কোটি টাকার জুয়া খেলা না চললেও তীর শিলং নামক গেইমের আস্তানা রয়েছে।রয়েছে ঘুটি দিয়ে এক প্রকার গেইম।আবার ইয়াবাসহ রকমারী মাদকদ্রব্যের ও সংগ্রহ রয়েছে-এমনটিও ধারণা করছেন তাঁরা। মাদক এবং জুয়ার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিদিনই মাদকদ্রব্যসহ জুয়া খেলার বোর্ডগুলোতে অভিযান চলছে রীতিমত। গ্রেফতারের সংখ্যাও বেশ উল্লেখযোগ্য।

তবে এবার এই অপারেশন চলবে অন্যভাবে।এই তালিকায় রয়েছে সিলেটের কয়েকটি অভিজাত ক্রীড়া সংগঠনের ক্লাব।জানাগেছে সিলেটের ক্লাবগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকে রাত বারোটা অবধি চলে লাখ লাখ টাকার লেনদেন।ক্লাবপাড়ায় নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে-এমনসব লোকজনদের সাথে কথা বলে জানাগেছে ক্রীড়া সংগঠনের ব্যাণারে এইসব ক্লাবগুলোতে সন্ধা থেকে রাত দুপুর পর্যন্ত চলে জুয়া খেলা।সিলেটের ক্লাব পাড়ায় এটাই প্রতিদিনের চিত্র । জেলা ক্রিড়া সংস্থার তালিকাভুক্ত প্রায় সব কটি ক্লাবেই এই অপকর্ম যেনো অঘোষিত নিয়ম।
নগরীর রিকাবিবাজারে বেশ কয়েকটি ক্লাবের কার্যালয় । এসব কার্যালয়ে জুয়া খেলা, মদ্যপান, খুবই স্বাভাবিক বিষয়।ক্যাসিনোর আদলে গুটি, তিন কার্ডের খেলা ফ্লাস, রামি, তীর, ইত্যাদি নানা নামে জুয়া চলে এসব ক্লাবে । দরগা গেইট, মিরবক্সটুলা, টিলাগড়, চৌহাট্টা, দক্ষিন সুরমাসহ বেশ কিছু জায়গায় ক্লাবের কার্যালয় রয়েছে । সব ক্লাব কার্যালয়েই সন্ধ্যা থেকে রাত বারোটা জুয়ার আসর বসে । আর এভাবেই প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আয় করছে বিভিন্ন ক্লাব-এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

সিলেটে রয়েছে অভিজাত দু’টি ক্লাব। নগরীর রথি, মহারথি আর নব্য টাকাওয়ালাদের পদচারণায় সে ক্লাবগুলো থাকে জমজমাট । রাত আট টার পর থেকে দামি দামি গাড়ির বহর চোখে পড়ার মতো । যদিও একটি ক্লাবের ইতিহাস অনেক প্রাচীন । একসময় শহরের সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষজনদের আনাগোনা ছিলো এই ক্লাবে অনেকটা আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ক্লাব পরিচালিত হতো। ঐতিহ্যের ধারাবহিকতায় এখনও চলছে। তবে নেই আগের ঐতিহ্য আর জৌলুস। মদ আর জুয়া এখন এই ক্লাবের মূল আকর্ষন। ক্লাব সংশ্লিষ্ট সুত্র এমনটা বলছে।

আরেকটি ক্লাব লিঃ কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে । এর মালিকানায় আছেন নব্য টাকাওয়ালারা। পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত জনৈক ব্যক্তি যদিও দাবী করেছেন, ক্লাবটি আন্তর্জাতিক মানের। বার’এর লাইসেন্স নিয়েই তারা মদ বা বিয়ার সরবরাহ করেন। জুয়ার বিষয়টি নাকচ করেছেন তিনি। যদিও তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন আছে । সুত্র বলছে, প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জুয়ার আসর বসে । মদ ও বিয়ারের মজুদ নিয়েও আছে নানা কথা । নগরীর বিভিন্ন হোটেলে এই ক্লাব থেকেই মদ সরবরাহ করা বলেও জানা গেছে ।

তাছাড়া নগরীর বিলাসবহুল বেশ ক’টি হোটেলেও চলছে অবৈধ মদ আর জুয়ার কারবার । রাজনীতিবিধ, আমলা, পুলিশের গুটি কয়েক কর্তা এসব আসরের মধ্যমনি । এসব হোটেলে বড় অংকের জুয়ার আসর বসে বলে অভিযোগ রয়েছে । সিলেটের সচেতন মহল এসব অপকর্ম বন্ধে অবিলম্ভে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। পবিত্র ভূমির পবিত্রতা রক্ষায় যতো শীগ্র এসব বন্ধ হবে ততো মঙ্গল এমনটাও বলেছেন কেউ কেউ ।

এসএমপি’র উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা বলেছেন, রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, সে অনুযায়ী অভিযান চলবে। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া । যার বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না । তিনি জোড় দিয়ে বলেন, শুধু রাজনীতিবিদ কেনো ? পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও অ্যাকশন নেয়া হবে।

Loading...