সুস্থ অবস্থায় নুর মিয়া জায়গা বিক্রি করেছেন

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে সেলিনা বেগম

নগরীর যতরপুরের ৭৪ নবপুষ্প নিবাসী মরহুম নুর মিয়া সুস্থ অবস্থায় স্বজ্ঞানে শামীম আহমদের কাছে জায়গা বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী সেলিনা বেগম।বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। তাছাড়া তিনি তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে নুর মিয়ার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ছালেহা বেগম তাদেরকে বাসা থেকে উচ্ছেদ করতে নানাভাবে হয়রানি করছেন ও হুমকি ধমকি দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার স্বামী শামীম আহমদ একটি টেলিভিশন চ্যানেলর গাড়ি চালক। নুর মিয়ার কাছ থেকে তিনি আমার নামে ৭৬ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেন ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট। পরে তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ৮৩ নবপুষ্প এলাকার ছালেহা বেগম ও তার মেয়ে জাফরিন আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

তার ছেলে জামিল আহমদ লন্ডন থেকে দেশে ফিরে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জমিটি তাদের ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। বিনিময়ে জমির দাম তিনি ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেন।এ নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর ও মুরব্বিরা একাধিক বৈঠকে বসেন। তারা সিদ্ধান্ত নেন, জমির রেজিষ্ট্রেশন খরচসহ তাকে দাম ফেরত দিতে হবে। আমরা এ সিদ্ধান্ত মানলেও তিনি মানেন নি।

এক পর্যায়ে তিনি দেশত্যাগ করেন। এ বছরের ৪ এপ্রিল রাতে একদল সন্ত্রাসী আমার বাসায় হামলা চালিয়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে জখম করে। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় আমি ১০ জনকে আসামী করে মামলাদায়ের করি।পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ছালেহা খাতুন আমার ও আমার স্বামী এবং তার অফিস প্রধানকে নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

রেজিস্ট্রারি অফিসে গিয়ে সাব রেজিস্ট্রারের সামনে দলিলটি সম্পাদন করা হয়েছিল। জমি বিক্রির সময় ছালেহা দেশে ছিলেন এবং তালাকপ্রাপ্ত হওয়ায় নুর মিয়া তাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেন নি। এমনকি জমিটি বিক্রির পর নুর মিয়াকে অত্যাচার নির্যাতন করেন ছালেহা তার সন্তান ও আত্মীয়রা। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর নুর মিয়া একটি সাধারণ ডায়রিও করেছিলেন (নম্বর ৭১৪)। তিনি বলেন, আমার শ^শুড় মারা গেলে আমরা বিশ^ম্ভরপুরে যাই। ফিরে এসে দেখি তারা পানি ও গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করেছেন। কিন্তু দলিলে উল্লেখ রয়েছে আমাকে গ্যাস ও পানির লাইন জমির মালিক প্রদান করবেন। আমি সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে বাধ্য হই।

পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করায় বিভিন্ন বাসা থেকে চেয়ে পানি এনে কোনমতে ব্যবহার করি। গত ২০ আগস্ট পানির সংযোগের জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে আবেদন করলে ২৫ আগস্ট ২০,৬৪৩ টাকা জমা দেই।খবর পেয়ে ছালেহা আবেদন করে আমার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। তখন মেয়র আমার দলিলসহ দাখিলকৃত কাগজপত্র আইনজীবীর মাধ্যমে পরীক্ষানিরীক্ষা করে আমার সব

কাগজপত্র বৈধতার প্রমাণ পান এবং পানির লাইন প্রদানের নির্দেশ দেন। আমি ১৭ সেপ্টেম্বর সংযোগ পাই।তিনি বলেন আমার কাছে জমি বিক্রি করায় নুর মিয়ার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী মেয়ে ও অন্যান্যরা তাকে অত্যাচার এবং ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন।এ অবস্থায় ২৯ জুন তিনি মারা যান। তিনি মানসিক রোগী ছিলেন না। সম্পুর্ন স্বজ্ঞানে তার প্রয়োজনে জমি বিক্রি করেছেন। মানসিক রোগী হলে

কিভাবে তিনি রেজিষ্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিল সম্পাদন করেন আর নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ডায়রি করেন? তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, জমি কেনায় যদি কোন অবৈধ তৎপরতা বা বেআইনী কিছু থাকে তাহলে এই জমি আমি ছেড়ে দিবো।সেলিনা যাচাই-বাছাই করে অন্যায়ভাবে নির্যাতনের হাত থেকে তাদের রক্ষার জন্য রাষ্ট্র সরকার ও জনগনের প্রতি আহ্বান জানান।

Sharing is caring!

Loading...
Open