কানাইঘাটে ইউনিলিভার অফিসে চুরি,৩ চোর গ্রেফতার

কানাইঘাট প্রতিনিধি:: গত ১লা সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কানাইঘাট থানার পার্শ্ববর্তী ছইফা ভিলায় অবস্থিত ইরাম ট্রেডিং ইউনিলিভার ডিস্ট্রিভিউশন অফিসের জানালার গ্রিল কেটে অফিসে প্রবেশ করে মুখোশধারী একটি অপরাধী চক্র নগদ প্রায় ৯ লক্ষ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইরাম ট্রেডিং এর সত্ত্বাধিকারী এনামুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চোরদের আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-২, তাং-১/৯/১৯ইং।

মামলার ঘটনার বিষয়টি জেনে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম গুরুত্বের সাথে চোর চক্রকে আটক করতে কানাইঘাট থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেন। অতঃপর কানাইঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল করিম ও থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম অপরাধীদের গ্রেপ্তারে একটি বিশেষ টিম গঠন করে মামলা দায়েরের প্রায় ১৪ দিনের সাড়াশি অভিযানে চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

যেভাবে চুরি :-

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, কিছুদিন পূর্বে তারা কানাইঘাটে আসলে ইউনিলিভার অফিসটি তাদের নজরে আসে। পরবর্তীতে গত ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় আবারো তারা অফিসের সামনে আসে এবং বিভিন্ন কর্মচারীদের অফিসে টাকা লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে চুরির পরিকল্পনা করে সিলেটে চলে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা রাত সাড়ে ১২টার দিকে কানাইঘাটে বাজারে আসে এবং বাজার থেকে রাত ২টার পর ইউনিলিভার অফিসের পিছনের রাস্তায় অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা বাসা বাড়ির পিছনের বাউন্ডারি টপকে ছাদে উঠে জানালার গ্রিল ভেঙ্গে ইউনিলিভার অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে এবং কৌশলে অফিসের ভোল্ট ভেঙ্গে নগদ ৮ লক্ষ ৯১ হাজার ৫৯৬ টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়।

যেভাবে চোরেরা গ্রেপ্তার :-

থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার জাহিদ ও এসআই সনজিত রায়, দেলোয়ার, মোফাজ্জল ও লিটন মিয়ার পুলিশ দলটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে চোর চক্রকে আটক করতে অভিযানে নামে। একপর্যায়ে সোর্স ও উন্নত তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে চোর চক্রের অবস্থান নির্ণয়ে সক্ষম হয় পুলিশ।

চোরেরা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাইভেট কারযোগে ভাসমানভাবে বিচরণ করে বিভিন্ন স্থানে দুঃসাহসিক চুরির অপরাধ সংগঠিত করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গত ১২ই সেপ্টেম্বর সিলেট শহরস্থ টুকের বাজার এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার নতুন বাজার গ্রামের শাহআলম মৃধার ছেলে মামুন মিজার (৩২)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর সূত্র ধরে অপর সহযোগীদের ধরতে ১৩ই সেপ্টেম্বর ঢাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। একপর্যায়ে সহযোগী আসামী ভোলা জেলার চরফেশন থানার নুরাবাদ গ্রামের মুত রফিজুল ইসলামের ছেলে ফারুক হোসেন (৩৫) এর অবস্থান জেনে দারুস সালাম থানা পুলিশের সহায়তায় সকাল ৯টায় দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত দু’জনের তথ্য মতে সহযোগী সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার দুলদিয়া দুলের চর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে এনামুল হক (১৮)কে ১৪ই সেপ্টেম্বর বেলকুচি থানা পুলিশের সহযোগিতায় কানাইঘাট থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

পরে গত রোববার চুরির ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি সিলেট শহরস্থ সানমুন হোটেলের পাশ থেকে এবং জালালাবাদ থানার শেখ পাড়াস্থ আসামী মামুন মিজানের বসত ঘরে থেকে লুন্ঠিত টাকার মধ্যে ১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

কানাইঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল করিম ও থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম সোমবার বিকেল ২টায় কানাইঘাট প্রেসক্লাবে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে থানায় এক প্রেস ব্রিফিং এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তারা আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ মাঠে সক্রিয় রয়েছে। থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদেরকে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অধিকতর তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য তাদের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open