জৈন্তাপুরে ভারতীয় ৮০বস্তা মটরশুটি দু’টি নৌকা ও ৫০টি গরু আটক

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:: জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল সীমান্তের বাঘছড়া এলাকা হতে বিজিবি অভিযান করে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় গরুর চালান ৫০টি ভারতীয় আটক করে। চোরাকারবারীরা গরু রেখে পালিয়ে যায়।

এলাকাবাসী ও বিজিবির সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৬ই সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল সীমান্তের ১৩০৩ আন্তর্জাতিক পিলারের ৭এস পিলার সংলগ্ন বাঘছড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে অভিযান করে ১৯ বিজিবি’র লালাখাল ক্যাম্পের টহল টিম ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশকালে ৫০টি ভারতীয় গরু আটক করে। বিজিবি‘র এযাবৎকালের আটককৃত গরুর মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযান। এসব গরুর মালিক, জালাল, সেলিম আহমদ ও রহিম উদ্দিন বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে ভারত হতে নিয়ে আসা গরু ফেলে পালিয়ে যায় এ সব চোরাকারবারীরা। আটককৃত ৫০ টি গরুগুলো বিজিবি’র টহল টিম লালাখাল ক্যাম্পে নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে ১৯ বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সাইদ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র টহল জোরদার থাকায় চোরাকারবারীরা গরুগুলো নিয়ে পালাতে পারেনি। চোরাকারবারীদের নাম সনাক্তকরণসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আমাদের জওয়ান তৎপর রয়েছে। তিনি আরো বলেন, যে কোন ধরনের চোরাই পণ্য আটক করতে সীমান্তে তৎপর রয়েছে বিজিবি।

অপর দিকে জৈন্তাপুর উপজেলা ৪৮বিজিবি’র পৃথক পৃথক অভিযানে ৮০বস্তা মটরশুটি ও ২টি নৌকা আটক। অপরদিকে বিজিবি কর্তৃক মটরশুটি আটকের জের ধরে চোরাকারবারী হামলায় কৃষক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিজিবি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানায়ায়, রোববার (১৫ই সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে উপজেলা আসামপাড়া এলাকায় ৪৮ বিজিবি’র শ্রীপুর ক্যাম্পের সুবেদার মনোহরের নেতৃত্বে টহল টিম অভিযান পরিচালনা করে ১০বস্তা মটরশুটি আটক করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারী পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী জানান, আটককৃত মটরশুটিগুলো চেরাকারবারী ফরিদ আহমদের।

তারা আরও বলেন, আসামপাড়া, শ্রীপুর, কাটালবাড়ী, মিনাটিলা, ছাগলখাউরী, মোকামপুঞ্জি, আলুবাগান এলাকা দিয়ে দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বস্তা মটরশুটি ভারতে পাচার হচ্ছে। শ্রীপুর ক্যাম্প কমান্ডার বলেন, বিজিবি তৎপর রয়েছে আটককৃত ১০বস্তা মটরশুটি কাষ্টমে প্রেরণ করা হবে।

অপরদিকে ১৪ই সেপ্টেম্বর রোববার রাত ১১টায় জৈন্তাপুর উপজেলা ডিবির হাওর সীমান্তের ১২৮৫নং পিলারের ১০নং সাব এস পিলার এবং ১২৮৬ মেইন পিলারের মধ্যেবর্তী নয়াগাং নদীর উৎসমূখ হতে ৪৮বিজিবি’র ডিবির হাওর বিশেষ ক্যাম্পের হাবিলদার ইউনুছের নেতৃত্ব টহলটিম গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে অভিযান পরিচালনা করে ২টি নৌকা সহ ৭০বস্তা মটরশুটি ভারতে পাচারকালে আটক করে।

এলাকাবাসী জানান চেরাকারবারী দলের সদস্য ইসলাম উদ্দিন, বিলাল আহমদ ও সামসু মিয়া বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকা ভর্তি মটরশুটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি কর্তৃক মটরশুটি আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিবির হাওর গ্রামের কৃষক ফরিদ আহমদের উপর হামলা করে চোরাকারবারী দলের সদস্যরা।

স্থানীয়রা ফরিদ আহমদকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের নিকট নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ী চলে যান। মটরশুটি আটক ও হামলার ঘটনায় ৩লাখ টাকা আমানত নিয়ে স্থানীয় ভাবে বিচারের কাঠামো করা হয়েছে।

৪৮ বিজিবি’র ডিবির হাওর বিশেষ ক্যাম্পের কমান্ডার ৭০বস্তা মটরশুটি দু’টি নৌকা আটকের বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃত মালামালগুলো কাস্টমসে প্রেরণ করা হবে। সীমান্ত এলাকায় আমাদের টহল জোরদার রয়েছে। মটরশুটি আটক নিয়ে চোরাকারবারীদের হামলায় ফরিদ আহমদ নামে কৃষক আহত হওয়ার বিষয় আমরা শুনতে পাই। যার উপর হামলা করা হয়েছে সে আমাদের কোন ইনফরমার নয়, বা তার তথ্যের ভিত্তিত্বে আমরা অভিযান করিনি। আমাদের এফএসএর মাধ্যমে তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে মটর শুটি আটক করি।

Sharing is caring!

Loading...
Open