কানাইঘাটে ‘অবৈধ’ সিএনজি, লেখা ‘সংবাদপত্র বহন’ !

কানাইঘাট প্রতিনিধি:: ‘জরুরী সংবাদপত্র বহনকারী’ লেখা লাগিয়ে বেশ কিছু সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাপীয়ে বেড়াচ্ছে কানাইঘাটের সব সড়ক। শুধু তাই নয়, এদের দ্বারা উপজেলাজুড়ে হচ্ছে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

বিষয়টি সম্প্রতি উপজেলায় বেশ আলোচনার জন্ম দিলে এদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে মাঠে নেমেছে কানাইঘাট ট্রাফিক পুলিশ। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার ট্রাফিক পুলিশ সংবাদপত্র বহনের নাম লাগানো একটি রোড পারমিটবিহীন সিএনজি গাড়ী আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

কানাইঘাট ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন- যে সব সিএনজি গাড়ীগুলোতে মহান সাংবাদিকতা পেশাকে কলঙ্কিত করে ‘জরুরী জাতীয় সংবাদপত্র বহন’ ও ‘সংবাদপত্রের’ নাম লাগিয়ে কানাইঘাটের রাস্তাঘাটে দাপীয়ে বেড়াচ্ছে সে সব সিএনজি গাড়ী আটকের জন্য উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পেয়ে মাঠে নেমেছেন তারা।

সাংবাদিক পেশার সাথে যারা সত্যিকার অর্থে জড়িত তারা দীর্ঘদিন ধরে সংবাদপত্রে স্টীকার ও সংবাদপত্র বহনের নাম লাগিয়ে যে সব দুষ্ট চক্র মাসোয়ারা আদায় করে গাড়ি চালাতে সহযোগিতা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশের কাছে দাবী জানিয়ে আসছিলেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন সড়কে কিভাবে অটোরিকশা চলে সেটা সাংবাদিকদের দেখার বিষয় নয়। কিন্তু সাংবাদিকতার মতো মহান পেশার নাম ভাঙিয়ে কানাইঘাটে রোড পারমিটবিহীন অটোরিকশা যেন আর না চলে এ জন্য সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন সহ ট্রাফিক পুলিশের সাথে জড়িত উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে- ‘জরুরী জাতীয় সংবাদপত্র বহন’ ও ‘সংবাদপত্র বহনের’ নাম গাড়ীতে লিখে সাংবাদিকতা পেশার সুনাম ক্ষুন্ন করে কথিপয় ভূঁইফোড় পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অবৈধভাবে প্রতিটি গাড়ী থেকে মাসে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা করে আদায় করছে। এতে করে সংবাদপত্র ও পেশাদার সাংবাদিকদের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। অনেকে এ নিয়ে সাংবাদিকদের নামে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে থাকেন।

কয়েকজন সিএনজি চালকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, বিভিন্ন পত্রিকার নাম দিয়ে কয়েকজন মাসিক মাসোয়ারা নিয়ে এসব গাড়ী চালাচ্ছে। এসব ভূঁইফোড়রা ভূয়া অনেক সাংবাদিক সংগঠনের পরিচয় দিয়ে থাকে। সংবাদপত্র বহনকারী স্টিকার লাগানো গাড়ীগুলো চোরাইপণ্য সামগ্রী বহন করে থাকে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। সংবাদপত্র বহনের নাম থাকার কারণে পুলিশ এসব গাড়ী আটক করতে সাহস পায় না। মাঝে মধ্যে পুলিশ এসব গাড়ী আটকের চেষ্টা করলে আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার কার্ডধারী এসব অপকর্মের সাথে জড়িত অপসাংবাদিকরা পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে থাকে। ভুঁইফোড় এসব কার্ডধারী কথিত এসব সাংবাদিকদের কোন সংবাদ পত্রপত্রিকায় চোখে পড়ে না। পত্রিকার কার্ড ব্যবহার করে মহান সাংবাদিকতা পেশার সুনাম ক্ষুন্ন করে রমরমা সিএনজি গাড়ীর ব্যবসা তারা চালিয়ে যাচ্ছে।

এসব অপকর্মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন এবং উপজেলার অটোরিকশা সিএনজি গাড়ীর স্ট্যান্ডের সাথে জড়িত শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সংবাদপত্র বহনের নাম ব্যবহার করে অটোরিকশা না চালানোর জন্য স্থানীয় সাংবাদিকরা আহবান জানিয়েছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open