ছন্নছাড়া সিলেট ছাত্রলীগ নেই কমিটি, নেই নেতৃত্ব

ছন্নছাড়া সিলেট ছাত্রলীগ। নেই কমিটি, নেই নেতৃত্ব। দল ক্ষমতায় থাকার পরও কমিটি না থাকায় অনেকটা বন্দিদশা কাটাচ্ছে সিলেট ছাত্রলীগ। কমিটি না থাকায় উত্থান ঘটেছে নানা গ্রুপ উপ-গ্রুপের। ঘটছে নানা অপকর্ম।

ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজানুল হক চৌধুরীর সিলেট আগমনে অনেকটা আশার মুখ দেখছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

তবে এর আগেও সিলেট সফরে আসছিলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা-মতবিনিময় করেছেন। কিন্তু কমিটি গঠন করতে পারেননি।

সিলেটে ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সিলেটের সন্তান এসএম জাকির হোসাইনও চেষ্টা করেছিলেন কমিটি দেয়ার। কিন্তু নানা কারনে তিনিও ব্যর্থ হন।

এবার কি শোভন পারবেন সিলেটের নেতৃত্ব নির্ধারণ করে, পারবেন কমিটি দিতে? এমনটাই প্রশ্ন নেতাকর্মীদের কাছে। তবে- শোভনের সফরকে কেন্দ্র করে আশার আলো দেখছেন নেতাকর্মীরা।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নেই প্রায় ২২ মাস ধরে। ফলে সংগঠনের শৃঙ্খলা অনেকাংশেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। কমিটি না থাকায় বিচ্ছিন্নভাবে নেতাকর্মীরা দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও অস্থিত হারাচ্ছে ছাত্রলীগের সিলেটের শক্তিশালী এই ইউনিটটি। আর দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় সংগঠনের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন কর্মীরা। পদ প্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা ব্যবসা বানিজ্যে চলে যাচ্ছে।

সর্বশেষ সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয় ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। শাহরিয়ার আলম সামাদকে সভাপতি ও এম. রায়হান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে সেসময় গঠন করা হয় ১০ সদস্যের আংশিক কমিটি। পরের বছর ২০১৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আরো ১৩১ সদস্য যোগ করে ১৪১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পায়। এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর থেকেই প্রকাশ্যে দুটি পক্ষে বিভক্ত হয়ে পরে জেলা ছাত্রলীগ। ঘটে সংঘর্ষ এবং একাধিক উত্তেজনাকর ঘটনা। যা ফল মাত্র চার মাসের মাথায় ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়।

প্রায় ৯ মাস পর একই বছরের ১১ ডিসেম্বর কমিটির ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। সাথে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সম্মেলন আয়োজনের একাধিক দিন-তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সম্মেলন করতে ব্যর্থ হয় সামাদ-রায়হান নেতৃত্বাধীন এই কমিটি।

২০১৭ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগ নেতা ওমর মিয়াদ হত্যা মামলায় জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এম. রায়হান চৌধুরী প্রধান আসামী হওয়ায় ১৮ অক্টোবর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। একই সাথে নতুন কমিটি গঠনের জন্য ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে জীবন বৃত্তান্ত আহবান করেন তারা। সেসময় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৃজন ঘোষের কাছে সভাপতি পদে ৬০, সাধারণ সম্পাদক পদে ৮০টিসহ তিনশতাধিক সিভি জমা পড়ে। কিন্তু সিভি নিয়েও কমিটি করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলনের আগে সিলেটের কমিটি করার জোড় চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সিলেটের ছেলে এস এম জাকির হোসাইন।

ফলে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে কমিটি ছাড়াই চলছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ। আর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ছাড়াই অতিবাহিত হয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। প্রত্যেকটি নির্বাচনেই ছাত্রলীগের কমিটি না থাকার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে বলে বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন সাবেক ছাত্রনেতারা।

২০১৫ সালের ২০ জুলাই আব্দুল বাছিত রুম্মানকে সভাপতি ও আব্দুল আলীম তুষারকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর ছাত্রলীগের ৪ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রায় সাড়ে ৩ বছরেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে না পারা এবং নানা অভিযোগে গত বছরের ২১ অক্টোবর বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এ কমিটি। সেই সাথে সাধারণ সম্পাদককে করা হয় বহিষ্কার। ওইদিনই নতুন কমিটি গঠন করার জন্য ১ নভেম্বরের মধ্যে পদপ্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেয়ার নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এ নির্দেশে পদপ্রত্যাশীরা জীবন বৃত্তান্ত জমা দিলেও হয়নি কমিটি। এদিকে, গত ২৬ জানুয়ারি আবার মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষারের উপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্তু উদ্যোগ নেই নতুন কমিটি গঠনের।
দীর্ঘদিন জেলা ও মহানগরের কমিটি না থাকায় দিন দিন সিলেটে অবস্থান হারাচ্ছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। ২০১৫ সালের পর থেকে কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় অনেক নেতাকর্মী দীর্ঘদিন রাজনীতি করে পদ পাননি। এই ক্ষোভে অনেকে হতাশ। কেউ কেউ আবার ছাত্ররাজনীতি বাদ দিয়ে যোগ দিয়েছেন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগে। দলীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডেও দেখা গেছে এর প্রভাব।

Sharing is caring!

Loading...
Open