সিলেটে হঠাৎ বেড়েছে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা

সিলেটে হঠাৎ বেড়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা। গত এক মাসে সিলেট বিভাগে এমন পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৪ জন। এরমধ্যে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রোববার ও সোমবার ভোরে সিলেটে পুলিশ ও র‌্যাবের সাথে

‘বন্দুকযুদ্ধে’ দু’জন নিহত হয়েছেন।গত একমাসের বন্দুকযুদ্ধের ৫টি ঘটনার ৩টিই ঘটেছে সিলেট জেলায়। বাকী দুটি সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে। জেলার ৩টি ঘটনার মধ্যে দু’জন পুলিশের সাথে ও একজন র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান। জেলা পুলিশের তথ্য

অনুযায়ী, গত এক মাসে বন্দুকযুদ্ধেদু’জন নিহত হওয়ার ঘটনার আগে চলতি বছরে সিলেটে আর কোনও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা

ঘটেনি।এক মাসে ৪ জন নিহত ছাড়াও গত মাসেই সুনামগঞ্জে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আহত হন একজন এবং গত ২৭ এপ্রিলে মৌলভীবাজারে পুলিশের সাথে আরেক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক যুবক নিহত হন।প্রতিটি ‘বন্দুকযুদ্ধের’ পরই পুলিশ ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে

গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এসব বিজ্ঞপ্তি ঘেঁটে দেখা গেছে, কখনো ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে হামলার শিকার হওয়া আবার কখনো অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার পর ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বাঁধে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা

বাহিনী। তবে এসব ঘটনায় নিহতদের সঙ্গীদের কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।হঠাৎ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা বেড়ে যাওয়াকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেকোনো

অপরাধীকেই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একইসঙ্গে বিচারকাজও যাতে দ্রুত শেষ হয় সেই উদ্যোগও নিতে হবে।

এভাবে বন্দুকযুদ্ধের ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গডফাদাররা আড়ালে থেকে যায় এবং অনেকসময় নিরপরাধ লোকও এর শিকার হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তবে এমন ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মানতে নারাজ পুলিশের সিলেট রেঞ্জের উপ

মহা পরিদর্শক (ডিআইজি) কামরুল আহসান। তিনি বলেন পুলিশ আক্রান্ত হচ্ছে বলেই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটছে। তবে আমাদের রেঞ্জে এরকম ঘটনা তুলনামূলক কমই হচ্ছে।সর্বশেষ সোমবার ভোরে সিলেটের গোয়াইনঘাটে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন

২০ মামলার আসামী ফজর আলী (৩৫)। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ফজরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি ও শিশু নির্যাতনসহ ২০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান

বলেন, গোপন খবরের ভিত্তিতে গোয়াইনঘাটের সালুটিকরে একটি মাদকের আস্তানায় অভিযান চালায় র‌্যাব সদস্যারা।এ সময় মাদক বিক্রেতারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করলে র‌্যাবও পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে ফজর ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং বাকিরা

পালিয়ে যায় বলে জানান এ র‌্যাব কর্মকর্তা।রোববার ভোরেও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে ডাকাতি মামলার এক আসামি নিহত হন। উপজেলার শেওলা ব্রিজ এলাকায় গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে বলে জানান বিয়ানীবাজার থানার ওসি অবনী শঙ্কর।জকিগঞ্জ উপজেলার শরিফাবাদ গ্রামের আলিম উদ্দিনের ছেলে মিসবাহ উদ্দিন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য

এবং তার বিরুদ্ধে সিলেটের বিভিন্ন থানায় ছয়টি ডাকাতির মামলা রয়েছে বলে ওসির দাবি।ওসি বলেন, মিসবাহকে শেওলা এলাকা থেকে আটক করে নিয়ে যাবার পথে তার সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।এ সময় পুলিশও

পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে মিসবাহ গুলিবিদ্ধ হলে তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যও আহত হন বলে জানান ওসি।

এরআগে গত ২৩ আগস্ট সিলেটের জকিগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একাধিক ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার আসামি আবদুস শহীদ ওরফে ফুলু (৩২) নিহত হন।

এ ঘটনা প্রসঙ্গে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মো. আবদুন নাসের বলেন, ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালালে ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে ফুলু মারা যান।

গত ৪ আগস্ট হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন সোলেমান মিয়া (৩০) নামে এক ব্যক্তি।

পুলিশের দাবি, নিহত সোলেমান ডাকাত দলের সদস্য। তিনি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া এলাকার বাসিন্দা। বন্দুকযুদ্ধে ডাকাতদের হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছিলেন বলেও জানান চুনারুঘাট থানার ওসি মো. নাজমুল হক।

গত ১৩ আগস্ট রাতে সুনামগঞ্জের ছাতকে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইলিয়াছ আলী (৩৬) নামের এক ব্যক্তি আহত হন। পুলিশের দাবি, তিনি ডাকাত দলের সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টি ডাকাতির মামলা রয়েছে।

এরআগে ২৭ এপ্রিল মৌলভীবাজারে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মুহিবুর রহমান জিতু নামের ব্যক্তি নিহত হন।জিতু মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ১২টি মাদকসহ ১৮ থেকে ২০টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রায় সবকটি ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ভোর ও মধ্যরাতে ঘটার কথা জানালেও মৌলভীবাজারের এই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে দুপুরে।

মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল শহরতলীর রায়শ্রী এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে খবরে পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থলে যায়। তখন জিতু ও তার সহযোগী শিপন পুলিশকে লক্ষ করে গুলি করে। এ সময় ডিবি পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে জিতু আহত হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সহযোগী শিপন পালিয়ে যায়। জিতুকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open