সেই নারী ব্যাংকার সেবামূলক কর্মকান্ডে নিজের পুরো স্যালারি খরচ করতেন

ছবিঃ সংগৃহিত

সোমবার (২৬ আগস্ট) ১২টা ৩৩ মিনিট। প্রতিদিনের মত ঢাকার উত্তরায় প্রাইম ব্যাংকের কার্যালয়ে নিজ ডেস্কে কাজ করছিলেন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার গহর জাহান।কাজের ফাঁকে হয়তো একবারও ভাবেননি ২ মিনিট পর মৃ’ত্যু’র স্বাদ গ্রহণ করতে

হবে তাকে।এই মৃত্যু ব্যথিত করেছে বহু মানুষকে।তার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক জানিয়েছেন অনেকে।সময়টা ছিল ১৯৯৫ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি।পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বোটানিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেণ।২০০০

সালে প্রাইম ব্যাংকে চাকরি হয় তার। ছিলেন রূপে গুণে অনন্যা। কিন্তু ওপেন হার্ট সার্জারির কথা জেনে বহুবার পাত্রপক্ষ পিছিয়ে যায়।এক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নেন এই লড়াকু নারী।কখনো বিয়ে করবেন না।নিজের সংসার সন্তান হয়নি তাতে কি! সন্তানের মতো

করে ছোট ভাইবোনদের মাতৃস্নেহে পরম মমতায় বড় করেছেন।আগলে রেখেছেন ভাইয়ের সন্তানদের। স্যালারির পুরো টাকাই খরচ করতেন সমাজ সেবামূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে। তার সহায়তায় একাধিক এতিম ছাত্র কোরআনে হাফেজ হয়েছেন।বোনের সম্পর্কে

কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ছোট ভাই তথ্য মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. মারুফ নাওয়াজ।’তিনি বলেন, মারা যাওয়ার কয়েক দিন আগে ভারতে যে চিকিৎসকের কাছে ওপেন হার্ট সার্জারি করেছে সে গহরকে অনেক অনুরোধ করে যেন একবার অন্তত চেকআপ করায়।ডাক্তার তাকে মা বলে সম্বোধন করতেন।ছোট ভাই দুবাই থেকে টাকা পাঠিয়ে চেকআপ করতে যেতে অনেক অনুরোধ করেছে।আমি এরইমধ্যে তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছি ভিসার জন্য।এরপর

তো সব শেষ হয়ে গেছে।বাবা মৃত মাওলানা নাওয়াজ ছিলেন পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা।মা নুরজাহান বেগম বার্ধক্যের ভারে অনেকটা নূয়ে পড়েছেন।দিনে রাতে যে কারো কোনো বিপদে ছুটে যেতেন।বলতেন,মাদার তেরেসা যেভাবে নিজের জীবন মানব

সেবায় ব্যয় করেছে আমিও সেভাবে মানবতার সেবায় জীবনকে উৎসর্গ করতে চাই। বোন হিসেবে সে ছিল অসাধারণ।অনেকটা মায়ের মত।আমার ছোট দুই ভাইকে পড়ালেখা থেকে শুরু করে বিদেশে পাঠানো সবকিছুই আমার এই বোন করেছে। মা আমাদের

জন্ম দিলেও ছোট ভাই বোনদের প্রতি সে এত যন্ত্রশীল এবং কেয়ারিং ছিল যেটা বলে বোঝানো যাবে না। সে উত্তরাতে আমাদের সঙ্গে থাকতেন। আমার ছোট দুই ছেলেকে আব্বাজান বলে ডাকতেন।এমনকি আমার বিয়ের কনে দেখা থেকে শুরু করে সবকিছুই

করেছেন তিনি। আমার বাচ্চাদের ছবি তার কর্মস্থলে ঝুলিয়ে রাখতেন। ব্যাংকের কাস্টমাররা জানতে চাইলে বলতেন এরা আমার বাচ্চা। গহরের বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর। বোনের ফিরতে একটু দেরি হলে ফোন দিয়ে বলতাম তোমার এতো দেরি হচ্ছে কেনো।

আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open