কানাইঘাটে মুছে ফেলা হচ্ছে হারিছ চৌধুরীর নাম!

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: নাম পরিবর্তনের দীর্ঘ ২৩ বছর পর ফের পাল্টে যাচ্ছে কানাইঘাটের মুলাগুল হারিছ চৌধুরী একাডেমির নাম। দীর্ঘদিন পর মুলাগুল হারিছ চৌধুরী একাডেমির নাম পরিবর্তনের আভাস পাওয়ার পর বিএনপি নেতাকর্মী ও হারিছ চৌধুরী অনুসারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং চাপা ক্ষোভ প্রত্যক্ষ করা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১নং লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দূর্গম এলাকায় মুলাগুল মৌজার বেশ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহযোগিতায় একাডেমি গড়ে উঠে।
মাধ্যমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া বৃহত্তর মুলাগুল এলাকার লোকজনের সম্মিলিত উদ্যোগে ১৯৯৫ সালে লোভা নদীর তীর সংলগ্ন মনোরম পরিবেশে মুলাগুল মাধ্যমিক বিদ্যালয় নাম দিয়ে যাত্রা শুরু হয় বর্তমান মুলাগুল হারিছ চৌধুরী একাডেমির। পরবর্তীতে এক বছর পর ১৯৯৬ সালে মুলাগুল মাধ্যমিক বিদ্যালয় নাম পরিবর্তন করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব কানাইঘাটের হারিছ চৌধুরীর নামানুসারে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়। এবং সে সময় প্রতিষ্ঠানটি ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিও ভূক্ত হয়।
পরবর্তীতে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৯ম ও ২০১২ সালে ১০ম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। সার্বিক ফলাফল ও পাঠদানের দিক থেকে বিদ্যালয়টির বেশ সুনাম রয়েছে। কয়েকশ শিক্ষার্থীরা এখানে লেখাপড়া করে থাকেন। বিভিন্ন সময় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ ও এলাকার সূধীজন দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভূক্ত করার জন্য বর্তমান সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলেও হারিছ চৌধুরী নামে প্রতিষ্ঠানের নাম থাকায় এমপিও ভূক্তি হয়নি বলে জানা গেছে।
সরকারিভাবে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিবছর স্কুলের বাৎসরিক অডিট করা হলেও এবছর অডিট হয়নি। শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মুলাগুল অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এবং প্রতিষ্ঠানটি ঠিকিয়ে রাখার স্বার্থে এমপিও ভূক্ত করার জন্য নাম পরিবর্তন সহ যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এলাকাবাসী এমন আভাস পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফখর উদ্দিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিও ভূক্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করলেও কোন প্রতিকার পাইনি। সম্প্রতি সিলেটের উর্ধ্বতন একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমরা ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দকে ডেকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাকার্য্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে নাম পরিবর্তন করার নির্দেশনা দেন। এ ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শমসের আলম সহ স্কুল প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত অনেকে জানান, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিও ভূক্ত করা হয় এবং তার নামানুসারে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়। সরকারি নির্দেশনার কথা বিবেচনা করে এলাকাবাসীর সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি ঠিকিয়ে রাখার স্বার্থে প্রয়োজনে হারিছ চৌধুরীর নাম পরির্বতন করা হবে।
তারা বলেন, নাম পরিবর্তনের আভাস পেয়ে হারিছ চৌধুরীর চাচাতো ভাই কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী গত ২৮শে আগস্ট তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন- উনার বড় ভাই, সুরমা নদীতে ব্রীজ, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ মানুষের অনেক উপকার করেছেন এবং মুলাগুলে একটি স্কুলও করেছেন। এলাকার লোকজন স্কুলটির নাম দিয়েছেন হারিছ চৌধুরী একাডেমি। সরকার বাহাদুর নামটা পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন। যাই হোক স্কুলটা ঠিকে থাকুক এটাই তিনি কামনা করেন।

প্রসঙ্গত যে,বিভিন্ন মামলার ফেরারী সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ১/১১ সরকারের পর থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী পলাতক রয়েছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open