দক্ষিণ সুরমায় ভাসুর ও দেবরের নির্যাতনের শিকার বিধবা নারী

দক্ষিণ সুরমার সিলামে স্বামীর রেখে যাওয়া বসতভিটা ছিনিয়ে নিতে একাধিকবার বিধবা স্ত্রীর উপর নির্যাতন করছে তাঁর ভাসুর ও দেবর। তারা দু’ভাই মিলে মৃত ভাইয়ের বসতভিটা দখল করতে উঠে পড়ে লেগেছে। বিধবা শেফা বেগম (৪০) সিলাম ইউনিয়নের

বিরাহিমপুর গ্রামের মৃত জুনাব আলীর স্ত্রী। হামলা ও নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৩০ আগস্ট) শেফা বেগমের বসত ঘরে ঢুকে নির্যাতন করতে থাকেন ভাসুর আছকর আলী ও দেবর সাজ্জাদ আলী। তাদের সাথে ছিলেন আছকর আলীর ছেলে সামেল

আহমদ। হামলায় শেফা বেগমের শ্লীলতাহানি ঘটিয়ে শরীরে লীলাফুলা জখমও করে তারা। এ ব্যাপারে তিনি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মোগলাবাজার থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।জানা যায়- ১৫ বছর পূর্বে দক্ষিণ সুরমার জালালপুর ইউনিয়নের নিজ

জালালপুর (পূর্ব ভাগ) গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে শেফা বেগমের সাথে বিয়ে হয় সিলাম ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামের মৃত আহসান উল্লাহর ছেলে জুনাব আলীর।দাম্পত্য জীবনে তাদের ৩টি কন্যা সন্তান জন্ম হয়।বিগত ৩ বছর পূর্বে জুনাব আলী মারা

যান। অভাবের কারণে সন্তানদের জকিগঞ্জের ফুলতলী সাহেব বাড়িতে এতিমখানায় ভর্তি করে দেন শেফা বেগম।তিনি স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়ার কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করে আসছেন।শেফা বেগম জানান- তার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই

ভাসুর আছকর আলী তাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে তিনি রাজি না হলে তাকে কুপ্রস্তাবও দেন আছকর

আলী। এতে তিনি রাজি না হলে নানা অজুহাত দেখিয়ে আছকর আলী তার ভাই সাজ্জাদ আলী ও ছেলে সামেলকে নিয়ে শেফা বেগমকে স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটে মাটি থেকে উৎখাত করতে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে।

দিন দিন ভাসুর ও দেবর মিলে নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। সর্বশেষ শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৯টায় আছকর আলী, সাজ্জাদ আলী ও সামেল আহমদ মিলে তার বসত ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে চুলের মুঠি ধরে পরনের কাপড় টানাহেচরা করে ছিড়ে

ফেলে ও কিল ঘুষি মেরে পুরো শরীরে লীলাফুলা জখম করে। শেফা বেগমকে ঘর থেকে উঠানে টেনে নিয়েও মারধর করতে থাকে।

এক পর্যায়ে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা চলে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে চাইলে হামলাকারীরা অনীহা প্রকাশ করায় শেফা বেগম এসএমপির মোগলাবাজার থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে মোগলাবাজার থানার ওসি আখতার হোসেন বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open