জকিগঞ্জে আসামীর ‘পক্ষে’ পুলিশ!

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় একটি মামলার আসামীকে বাঁচাতে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ উঠেছে। এ আসামীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও ক্ষমতার দাপটে তিনি বারবারই থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এসব বিষয় উল্লেখ করে মঙ্গলবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জকিগঞ্জ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের গন্ধদত্ত এলাকার মৃত আফতাব আলীর ছেলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. আব্দুল হান্নান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চালিয়ে জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের দোকানে ‘এস এস ফুড’ কোম্পানির মালামাল বিক্রি করেন। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে স্থানীয় প্রভাবশালী পৌর এলাকার গোপিরচক গ্রামের বেন্ডাই মিয়ার ছেলে আব্দুস সালাম (৩৫), পীরেরচক গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে মাসুম আহমদ (২০), একই গ্রামের ধলাই মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (২২), আব্দুস সাত্তারের ছেলে শামিম আহমদ (২৮) ও মৃত মহব্বত আলীর ছেলে মামুন আহমদ (২৫) ব্যবসা পরিচালনা করতে গেলে প্রতিদিন তাদেরকে ২০০ টাকা করে দিতে বলে। টাকা না দিলে তারা বাজারে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়াসহ নানান হুমকি দেয়।

আব্দুল হান্নান বলেন, ‘কিন্তু আমি তাদের কথা মতো টাকা না দেওয়ায় ২৭ জুলাই রাতে আমি বাড়িতে যাওয়ার তারা জকিগঞ্জ বাজারস্থ মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বরের পাশে আমার পথরোধ করে কেন টাকা দেইনি সেটি জানতে চায়। কথাবার্তার এক পর্যায়ে আমি তাদের দাবীকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আব্দুস সালাম আমাকে ধরে গলায় টিপা দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। এরপর আব্দুস সালামের সাথে উল্লেখিত ৪ জন আমাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে পকেট থেকে মালামাল বিক্রির নগদ ১৭ হাজার ৫শ টাকা ও একটি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমি জকিগঞ্জ থানায় তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী, চুরি ও মারধরের অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ও পুলিশের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় পুলিশ আমার অভিযোগ মামলা আকারে থানায় রেকর্ড করেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমি নিরুপায় হয়ে ১৩ অক্টোবর জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চাঁদাবাজ চক্রটির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করি। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশকে মামলা রেকর্ড ও ১৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। এরপর পুলিশ মামলা রেকর্ড করে। জকিগঞ্জ থানার মামলা নং ০৮, তারিখ ১৩/১০/১৮ খ্রী, জিআর নং ২০২/১৮, ধারা ৩২৩/৩৭৯/৩৮৫/৫০৬(২)। কিন্তু নাটকীয়তা শুরু হয় মামলাটি রেকর্ডের পর। দীর্ঘদিন পরেও কোন আসামী গ্রেফতার কিংবা আদালতে চার্জশিট দাখিল না করায় আমি ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল সিলেটের ডিআইজি মহোদয়ের কাছে ন্যায় বিচার ও আসামী গ্রেফতারের জন্য একটি লিখিত আবেদন দাখিল করি। এরপর পুলিশ শামিম আহমদ নামের এক আসামী গ্রেফতার করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ দীর্ঘদিন পর মামলাটির চার্জশিট আদালতে দাখিলের পর জানতে পারি ঘটনার মূলহোতা আব্দুস সালামকে অব্যাহতি দানের সুপারিশ করে বাকি ৪ আসামীকে অভিযুক্ত করে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের কাছে চার্জশিট দাখিল করেছেন। পরে আমি এ চাজর্শিটের উপর নারাজি দিলে আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য জকিগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান জকিগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাহ উদ্দিন। তিনিও এ মামলা থেকে আব্দুস সালামকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আব্দুস সালাম প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তার পক্ষপাতিত্ব করে সাক্ষীদেরকে ডেকে নিয়ে ধমক দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আব্দুস সালামকে বাঁচাতে চাইছেন।’

মো. আব্দুল হান্নান অভিযোগ করে বলেন, ‘‘তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে ডেকে নিয়ে বলেছেন ‘আব্দুস সালামকে ছেড়ে সাক্ষী দিতে হবে। আগের তদন্তকারী কর্মকর্তা যেহেতু আব্দুস সালামকে অব্যাহতি দানের সুপারিশ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন সেহেতু আমি আব্দুস সালামকে চার্জশিটে অর্ন্তভূক্ত করলে আগের তদন্তকারী কর্মকর্তার চাকরীতে ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আমি যেন আগের তদন্তকারী কর্মকর্তার চাকরী বাঁচানোর স্বার্থে আব্দুস সালামকে ছেড়ে স্বাক্ষী প্রদান করি।’’

এ অবস্থায় মো. আব্দুল হান্নান মামলাটির ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সিলেটের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা বরেছেন।

আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আব্দুস সালাম এর আগেও বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার টমটম চালককে জিম্মি করে চাঁদা আদায় করেছিলেন। পরে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় সালামের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দাখিল করেছিলেন টমটম চালকরা। কিন্তু বারবারই প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যান তিনি।’ –বিজ্ঞপ্তি

Sharing is caring!

Loading...
Open