চাকুরিতে যোগদানের প্রথম দিনেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো দোয়ারাবাজারের রমজান

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :: লেখাপড়ার খরচ যোগান দেয়া হলোনা মেধাবী শিক্ষার্থী রমজান আলীর। চাকরিতে যোগদানের প্রথম দিনেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো সে। নিহত রমজান সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সমুজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ও একই উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের গিরিশনগর গ্রামের শাহ আলমের পুত্র। বাড়ি থেকে কাজের সন্ধানে বের হয়ে ৪ দিনের মাথায় এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে বলে কেউ ভাবেনি। কিভাবে মৃত্যু হলো তা জানা নেই রমজান আলীর মা বাবার। এলাকায় এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে চলছে শোকের মাতম। মঙ্গলবার বিকালে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এসময় ছেলের লাশ দেখে তার মা ফাতেমা বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে পুত্রশোকে আহাজারি করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এ দিকে তার মৃত্যুকে ঘিরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদসহ স্থানীয়রা জানান, কলেজ শিক্ষার্থী রমজান আলীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিবপুর উপজেলার ইটখোলা আদরী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির কর্তৃপক্ষ কিভাবে একজন অপ্রাপ্ত ও অনবিজ্ঞ শিশুকে চাকরির প্রথম দিনেই আন্ডারগ্রাউন্ডের পানির ট্যাংকি পরিস্কার করতে দেয়। এছাড়া কিভাবে, কোথায় কিভাবে তার মৃত্যু হলো এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। অসহায় দরিদ্র পরিবারকে কোনো প্রকার আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াই লাশ ভাড়াটে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে দায় সেরেছেন। তার মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের উদ্রেক হওয়ায় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিগগির আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান নিহতের পরিবারসহ স্থানীয়রা।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারে অভাব-অনটনের মধ্যে কোনোমতে মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে সবে মাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছিল রমজান আলী (১৬)। তার বাবা শাহ আলম শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান। তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে রমজান আলী বড়।

উল্লেখ্য, মাস কয়েক আগে রমজান আলী স্থানীয় টেংরা উচ্চ বিদ্যালয় হতে সমুজ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর সে লেখাপড়ার খরচ যোগান দিতে না পারায় বৃহস্পতিবার পরিবারের কাউকে না জানিয়ে চাকরির উদ্দেশ্যে একই গ্রামের আব্দুল মালেকের পুত্র রিপন মিয়ার সঙ্গে নরসিংদীতে যায়।

তার সহপাটি রিপন মিয়া জানায়, সোমবার থেকে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটখোলাস্থ ‘আদরী গার্মেন্টস’ ফ্যাক্টরীর ভেতরে পানির ট্যাংকি পরিস্কারের কাজ পায়। প্রথম দিনই পানির ট্যাংকি পরিস্কার করতে গিয়ে সেখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। এ সময় তার চিৎকার শুনে অন্যান্য শ্রমিকসহ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রæত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তখন তাকে মৃত ঘোষণা করলে সেখানেই পুলিশ তার সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে আদরী ফ্যাক্টরীর নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহত রমজান আলীর লাশ বাড়িতে পাঠায়। পথিমধ্যে রহস্যজনকভাবে ভৈরবে এসে অন্য একটি ভাড়েটে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার লাশ দোয়ারাবাজারে পাঠানো হয়। তখনও আদরী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর কেউ তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এমনকি লাশ বাড়ি পৌছেছে কি না সে খোঁজখবরও রাখেনি।

জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাশেম বলেন, নরসিংদীর শিবপুরে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে কাজ করতে গিয়ে কলেজ ছাত্র রমজান আলী মারা গেছে বলে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে সেখানকার পুলিশ বিস্তারিত বলতে পারবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open