কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নে ছোট ভাইয়ের হুমকিতে বড় ভাই ইউপি সদস্য ঘরছাড়া


মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নে ছোট ভাইয়ের হুমকিতে প্রাণভয়ে বড় ভাইকে নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাড়িছড়া ও বর্তমান রজব আলী উপজেলার কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। ছোট ভাই মো.মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে হুমকি প্রদানের অভিযোগ এনে আইজিপি ও মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার বারবরে অভিযোগ করেছেন রজব আলী।

অভিযোগে রজব আলী উল্লেখ করেন, উপজেলার কর্মধা ইউনিয়ন পরষিদের সদস্য রজব আলীকে তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাত করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি প্রদান প্রাণনাশের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন তাঁরই আপন ছোট ভাই মইনুল ইসলাম।চলতি বছরের ২১ এপ্রিল নিজের চাষ করা ক্ষেতের ধান কাটতে গেলে মইনুল ইসলাম তাঁর বড় ভাই রজব আলীকে বাঁধা প্রদান করেন।এসময় তিনি তাঁর বাধা না মানায় তাকে হত্যার চেষ্টা করেন। এসময় স্থানীয়রা এসে তাঁকে (রজব আলীকে) উদ্ধার করেন। এব্যপারে রজব আলী ওইদিন কুলাউড়া থানায় একটি জিডি (নং১০২১) দায়ের করেন।

এতে মইনুল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং রজব আলীকে হুমকি দেন। নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে রজব আলী তাঁর চাচাতো বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। স্থানীয়রা বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করতে চাইলেও মইনূল তাতে রাজি হননি। মাসখানেক ধরে ঘরবাড়ি ছাড়া রয়েছেন রজব আলী। গত ৫ আগস্ট রজব আলী বাংলাদেশ পুলিশের মহা পরিদর্শক (আইজিপি) ও মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার বারবরে দুটি অভিযোগ ডাক যোগে প্রেরণ করেন।

এদিকে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্তক্রমে রিপোর্ট প্রদানের জন্য কুলাউড়া থানার উপ পরিদর্শক আব্দুর রহিমকে দায়িত্ব প্রদান করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মইনুল ইসলাম বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সোনাপুর জামে মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন। মইনুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী জেসমীন আক্তার আত্মহত্যা করেন। এরপর তিনি আরেকটি বিয়ে করেন।

জেসমীন আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনায় তাঁর ভাই (জেসমীনের) ভাই বাদী হয়ে ২০১১ সালে মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নং ১৪) দায়ে করেন। এ ঘটনায় মইনুল ২৮ মাস জেল হাজতে ছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হন তিনি। এই মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। এর আগে ২০০৯ সালে মইনুল কাতারে থাকাবস্থায় প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। ওই সময় তাঁর (মইনুলের) আরেক ভাই কাতার প্রবাসী ফারুক আহাম্মদসহ আরো ৩জনের সাথে প্রতারণার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানে জেলে ছিলেন মইনুল।

সেসময় কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে সচিব মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত (যার স্মারক নং বিই(কিউ)/এলবিডাব্লিউ-১২/পি/২০০৯/১৮৭) চিঠিতে কাতারে মইনুল বিভিন্ন প্রতারণা, নারী কেলেংকারীসহ অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত থাকা ও শাস্তি ভোগের কথা উল্লেখ করে তাঁর সম্পর্কে সতর্ক নজরদারী রাখার জন্য মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। এছাড়াও ২০১০ সালের ১৯ ফব্রেুয়ারি ফেনীতে একটি হোটেল থেকে নারীসহ আটক হোন মইনুল। একই বছর ১৩ আগস্ট শ্রীমঙ্গল শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে মইনুলকে আবারো নারীসহ আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় শাস্তিস্বরূপ মইনুলকে তিন মাসের জেল খাটতে হয়।

অভিযোগের ব্যাপারে মোবাইলে জানতে চাইলে মইনুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিভিন্ন অভিযোগ করছেন আমার ভাই রজব আলী। তিনি নিজেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকছেন বেশ কয়েকবছর ধরে। আমি তাঁকে বাড়িতে ফেরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু তিনি রাজি হননি। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন জানেন। উল্টো তিনি আমাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করছেন। তার হয়রানীর শিকার হয়ে আমিও পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েছি।

অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার উপ পরিদর্শক আব্দুর রহিম বলেন, পুলিশ সুপার বরাবর রজব আলীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে রিপোর্ট প্রদান করবো।

Sharing is caring!

Loading...
Open