চেঙ্গেরখাল নদীতে থেমে নেই মনফর বাহিনীর চাঁদাবাজি !


অনুসন্ধানী প্রতিবেদনঃ সিলেটের জালালাবাদ থানার চেঙ্গেরখাল নদীপথে সরকারের শুল্ক ষ্টেশন থেকে রয়েলিটিকৃত এলসির কয়লা বহনকারি ভলগেট কার্গো নৌকায় প্রকাশ্যে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি।চাঁদাবাজদের হুমকীতে বলগেট নৌকার মাঝিরা আতংকিত অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীপথে চলাচল করছে প্রতিনিয়তই। বালু ও পাথর ক্রয় করে সারা দেশে যোগান দেয় ব্যবসায়ীরা এসব আমদানিকৃত পণ্য বহনের সহজ মাধ্যম নদীপথ ঐ নদীপথে বলগেট,কার্গোগুলো চলাচলের সময় ৫-৬ টি স্থানে ইঞ্জিন চালিত ছোট নৌকা দিয়ে চাঁদা আদায় করে চলছে চাঁদাবাজরা,চেঙ্গেরখাল নদীতে পাথর ও বালুবাহী নৌকা ও কার্গো থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।১নং জালালাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মনফর আলীর নেতূত্বে এই চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং জালালাবাদ থানা পুলিশ । চেয়ারম্যান মনফর আলীর নিজস্ব বেপরোয়া চাঁদাবাজ চক্র।

প্রতিদিন প্রায় দেড় শতাধিক নৌকা চেঙ্গেরখাল নদীর সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন এলাকা অতিক্রম করার সময় নৌকা ও কার্গো থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে স্থানীয় এই চাঁদাবাজচক্র । সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের কথামতো চাঁদা না দিলে মারপিট সহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে ব্যবসায়ীদেরকে।নদীতে মনফর আলী তার বিশাল বাহিনী নিয়ে চাঁদা আদায় করছেন চাঁদা না দিলে মাস্তান চক্র মাল বোঝাই নৌকা ও কার্গো আটকে রেখে দেয়। এতে বাধ্য হয়ে তারা চাঁদা দিয়ে মুক্ত হয়ে যান। ভুক্তভোগীরা জানান চাঁদাবাজ চক্রের এধরণের বেপরুয়া চাঁদাবাজির কারনে জীবনের ঝুঁকি কোন প্রকার ইজারা ছাড়াই স্থানীয় সরকার বিভাগের নামে টোকেন দিয়ে নদীর জালালাবাদ ইউনিয়নের কালারুকা ইলঙ্গির বিলের কাড়া নামক স্থানে এই চাঁদাবাজি চলছে ।

প্রতিদিন এই সকল নৌকা ও কার্গো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বালু ও পাথর সরবরাহ করে থাকে। গত ৫ মে থেকে হঠাৎ করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনফর আলীর নিজ্বস ১৫/২০ জনের একটি চক্র সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে চাঁদা আদায় শুরু করে। একটি নৌযান থেকে প্রতিদিন ১০০০/১৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। আবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নৌকার মাঝিসহ শ্রমিকদের মারধরের ঘটনা ঘটছেবলে জানান চালকরা, চাঁদার টাকা নিয়ে টোল আদায়ের রশিদ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রলায় বিভাগ সচিবালয় ঢাকা লেখা একটি স্লিপ ধরিয়ে দেয়া হয়। ১১১১১০৯ -৬ এর নৌকার মালিক বলেন, এভাবে নতুন নতুন জায়গায় চাঁদাবাজি বাড়তে থাকলে আমাদের সিলেটকেন্দ্রিক ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। নদীপথে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে যে কোন সময় ভলগেট কার্গো নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি চাঁদা না দেয়ায় তার কার্গো এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানান। এরপর ব্যবসার স্বার্থে তার চালক চাঁদা দিতে বাধ্য হন। স্থানীয়রা জানান চাঁদাবাজির বিষয়টি জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওকিল উদ্দিনকে অবহিত করলে জালালাবাদ থানা পুলিশ ওসি ওকিল উদ্দিনের নেতূত্য চেঙ্গেরখাল নদীর কালারুকা ইলঙ্গির বিলের কাঁড়া নামক স্থানে টহল পুলিশ মোতায়েন করেন এরই প্রেক্ষিতে গত ১০ই জুলাই ইউপি চেয়ারম্যান মনফর আলীর ছোট ভাই আনফর আলীসহ দুই চাঁদাবাজকে চাঁদা আদায়কালে হাতে নাতে গ্রেফতার করে জালালাবাদ থানা পুলিশ ।

পরবর্তিতে জালালাবাদ থানার শিবের বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই চন্দ্র শেখর বড়ুয়া  বাদি হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনফর আলীকে হুকুমদাতা সহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০,১২ জনকে আসামী করে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। এর আগে ১৯ জুন অভিযানকালে চাঁদাবাজরা পালিয়ে গেলে তাদের ফেলে যাওয়া একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আটক করে জালালাবাদ থানা পুলিশ। তারপর গত ৩০ই জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিল মোহর সম্বলিত একটি ভুয়া চাঁদা আদায়ের রসীদ একজন ভলঘেট চালকের কাছ থেকে উদ্দার করে জালাবাদ থানা পুলিশ । এত কিছুর পরও থেমেনেই চেঙ্গেরখাল নদীতে মনফর বাহিনীর চাঁদাবাজি ।

গত ১৮ জুলাই মনফর বাহিনী চাঁদা আদায়কালে এক ভলগেট চালকের নিকট থেকে ১০০০’টাকা চাঁদা উত্তলন করে মনফর বাহিনী পরবর্তিতে অই ভলগেট চালক নিরাপদ দুররেত্বে এসে ৯৯৯ নাম্বারে যোগাযোগ করে স্থানীয় পুলিশ পশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন , পরবর্তিতে জালালাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিতহলে চাঁদাবাজচক্র একটি দ্রত ইঞ্জিন চালিত নৌকা যুগে পালিয়ে যায় । স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনফর আলীর মুঠোফোনে একাদিকবার কল দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি, এ ব্যপারে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওকিল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন চাঁদাবাজরা যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন,যে কোন শাখার হোক আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে আমাদের কমিশনারের স্যারের নির্দেশ । শিবের বাজার পুলিশ ফাড়ীর ইনচার্য এস আই চন্দ্র শেখর বড়ুয়া জানান চাদাবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।চলবে………।

Sharing is caring!

Loading...
Open