ছেলেধরা সন্দেহে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক বৃদ্ধকে (৫০) পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীযরা। শনিবার (২০ জুলাই) রাত ১০ টার দিকে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগান এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।শনিবার বিকেলেই গণপিটুনি দিয়ে মানুষ মারাকে বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে উল্লেখ পুলিশ সদর দফতর থেকে একটি বিবৃতি প্রদান করা হয়।

এই বিবৃতি প্রদানের কয়েকঘন্টার মধ্যে তমলগঞ্জে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হলো।এরআগে শুক্রবার রাতে একই জেলার বড়লেখায় মানিক ও শাহনুর নামে দুই যুবককে ছেলেধরা সন্দেহে দুই যুবককে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, পিটুনির শিকার দুই যুবক ছেলেধরা নয়, মাদকসেবী।সম্প্রতি পদ্মাসেতু নিয়ে একটি গুজবের জের ধরে সারাদেশেই ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা ঞটাৎ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।কমলগঞ্জের ঘটনার ব্যাপারে দেওড়াছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি সুবোধ

কুর্মী জানান, দেওড়াছড়া চা বাগান এলাকায় স্থানীয় লোকজন সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে অজ্ঞাত পরিচয়ের ঐ ব্যক্তিকে আটক করে তার নাম পরিচয় জানতে চান। পরিচয় জিজ্ঞেস করার পর অসংলগ্ন কথাবার্তায় ছেলেধরা সন্দেহে তাকে চা বাগান শ্রমিকরা চা বাগান অফিসে নিয়ে আসেন। এতে শতাধিক শ্রমিক বিক্ষুদ্ধ হয়ে অফিস চত্বরে ঢুকে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতরভাবে আহত করেন।পরে দেওড়াছড়া চা বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক মোস্তফা জামানের নির্দেশনায় এ চা বাগানের মেডিক্যাল

সুপারভাইজার গোপাল দেব তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত লোকটি এ এলাকার ছিল না। চা শ্রমিকরা সন্দেহজনক ঘোরাফেরায় তাকে আটক করে নাম পরিচয় জানতে চাইলে সে সঠিক জবাব দিতে পারেনি। পরে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে সে আহত হলে গুরুতর আহতাবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথে সে মারা যায়। এ ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে বলেও তিনি জানান।

Sharing is caring!

Loading...
Open