আদালতে বিচারকের টেবিলের ওপর ফেলেই ছুরিকাঘাতে হত্যা

অন্যান্য দিনের মতোই কাজ শুরু হয়েছিল কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। শুনানির তারিখ অনুযায়ী অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (তৃতীয়) আদালতে ছয় বছর আগের একটি হত্যা মামলার জামিনে থাকা তিন আসামি হাজির হয়। সোমবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বিচারক এজলাসে আসেন। চেয়ারে বসে মামলার কাগজপত্র হাতে নেন। ঠিক ওই সময় মামলার চার নম্বর আসামি ফারুককে ছুরিকাঘাত করে ছয় নম্বর আসামি হাসান। জীবন বাঁচাতে ফারুক এজলাসে উঠে পড়েন, বিচারকসহ আইনজীবীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। দৌড়াতে থাকে ফারুকও। বিচারকের খাস কামরার দিকে ছুটে যান তিনি। পেছন পেছনে দৌড়ে আসে হাসানও। এসে ফারুককে বিচারকের টেবিলের ওপর ফেলেই ছুরিকাঘাতে হত্যা করে হাসান। আদালতে অন্য একটি মামলার হাজিরা দিতে আসা কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার এএসআই ফিরোজ এগিয়ে গিয়ে হাসানকে আটক করেন। এভাবেই পুরো হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিলেন কুমিল্লার অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নুরুল ইসলাম।

এই ঘটনার পর বিচারক, আইনজীবী, আদালতপাড়াসহ পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানান এপিপি। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।বিচারকের এই টেবিলেই আসামিকে হত্যা করা হয়হত্যাকারী হাসান ও নিহত ফারুক একই মামলার আসামি ও সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই। নিহত ফারুক কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার কান্দি গ্রামের অহিদ উল্লাহর ছেলে। ঘাতক হাসান কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ভোজপাড়া গ্রামের শহিদ উল্লাহর ছেলে।এপিপি নুরুল ইসলাম জানান,২০১৩ সালে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের কান্দি গ্রামে হাজী আবদুল করিম হত্যার ঘটনা ঘটে। সোমবার ওই মামলার জামিনে থাকা আসামিদের হাজিরার দিন ধার্য ছিল।

এ মামলার ফারুক ও হাসানসহ তিন আসামি আদালতে হাজির হয়। বাকি পাঁচ আসামি পলাতক। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী না থাকায় সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তবে, বিচারক কাজ শুরুর আগেই চোখের পলকে হত্যাকাণ্ড ঘটে যায়। তিনি বলেন, ‘আদালতের ভেতরে থাকা দুই-তিনজন পুলিশ চেষ্টা করলে অভিযুক্তকে আটকাতে পারতেন। কিন্তু তাদের কোনও ভূমিকাই ছিল না।’ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার

কী কারণে হত্যা

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ নেওয়াজ সুলতানা বলেন, ‘সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে ২০১৩ সালে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের কান্দি গ্রামে হাজী আবদুল করিমকে হত্যা করা হয়। আবদুল করিম আসামি হাসানের নানা। নিহত ফারুকের দাদা। হত্যাকাণ্ডের পরই একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার চার নম্বর আসামি ছিল ফারুক। ২০১৫ সালে মামলার চার্জশিট হওয়ার সময় ফারুকের দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে হাসানের নাম ওঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ওই মামলায় হাসানকে ছয় নম্বর আসামি করা হয়।’

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘ফারুকের উদ্দেশে হাসান বলে, তোর কারণে আসামি হয়েছি। এ কথা বলার পরই ফারুককে ছুরিকাঘাত করে হাসান। এতে বোঝা যায়, ফারুক কেন জবানবন্দিতে হাসানের নাম বলেছে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। কিন্তু প্রতি হাজিরায় দেখতাম তারা একসঙ্গে এসে হাজিরা দিয়ে আবার চলে যায়। কখনও এমন বিরোধের কথা শুনিনি। তাদের মধ্যে অন্য কোনও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে কিনা, আমি বলতে পারবো না।’

Sharing is caring!

Loading...
Open