খরচ কমাবে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ ডেস্ক:: বিদ্যুতের উল্টোটা ঘটছে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটারের ক্ষেত্রে। দেশব্যাপী বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার নিয়ে যখন নাখোশ গ্রাহক, তখন গ্যাসের প্রি-পেইড মিটারে দেখছে কিছুটা স্বস্তি। ব্যবহারকারী ও তিতাস বলছে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটারে খরচ কমবে ৪০-৫০ শতাংশ।

প্রি-পেইড মিটারে মানুষ গ্যাস ব্যবহার করবে পরিমিত। তাই অর্থও সাশ্রয় হচ্ছে বা হবে। তবুও রাজধানীতে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার স্থাপনে আগ্রহ কম গ্রাহকদের। খোদ প্রকল্প কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনেও গ্রাহকদের অনীহার কথা উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষ বলছে অনীহাটা তৈরি হয়েছে বিদ্যুতের ভীতি থেকে।

তথ্যমতে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে রাজধানীতে দুই লাখ প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করতে চায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ১৫০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট গ্যাস চুরি রোধ করার পাশাপাশি গ্যাসের অবৈধ সংযোগও বন্ধ করা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন পাইপলাইন প্রতিস্থাপন হলে বিভিন্ন ছিদ্র ও ব্যবস্থাপনা ত্রুটির (সিস্টেম লস) কারণে যে অপচয় হয়, তাও রোধ সম্ভব হবে।

কিন্তু প্রি-পেইড মিটারে অগ্রিম রিচার্জ করে গ্যাস ব্যবহার করতে আগ্রহী নন অনেক এলাকার গ্রাহক। গ্রাহক বলছেন, প্রি-পেইড মিটারে অগ্রিম রিচার্জ করলে নানা চার্জ কেটে নেওয়া হয়। এতে লাভবান নয়, উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হন গ্রাহক। প্রি-পেইড নয়, পোস্টপেইড পদ্ধতিতেই থাকতে চান।

তবে ভিন্ন কথা বলছেন তিতাস গ্যাস প্রি-পেইড প্রকল্পের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, গ্যাসের প্রি-পেইড মিটারে গ্রাহক যেমন পরিমিত গ্যাস ব্যবহার করেন, তেমনি খরচও সাশ্রয় হয়। প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করলে অবৈধ গ্যাস সংযোগের সুযোগ থাকে না, তাই এ মিটার স্থাপনে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন। তবে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় প্রি-পেইড মিটার স্থাপনে তেমন আপত্তি নেই গ্রাহকদের।

জানা যায়, শুধু সরকারিভাবে প্রি-পেইড মিটার আমদানি নয়, বেসরকারিভাবেও মিটার আমদানি করার সুযোগ দিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব দিয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় এ গ্যাস ড্রিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। ফলে সব গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা সম্ভব হবে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্যাসের অপচয় রোধ করতে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ন্যাচারাল গ্যাস ইফিসিয়েন্সি প্রকল্প (বিডি-পি৭৮) হাতে নেয় তিতাস। প্রথমে প্রকল্পের মেয়াদ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে ডিসেম্বর ২০১৮ ধরা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ৪৯৮ কোটি টাকা। প্রথমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ধরা হলেও বর্তমানে এটি চলমান প্রকল্প হিসেবে অব্যাহত থাকবে।

জাপান সরকাররে ৩৫তম ওডিএ ঋণ প্যাকেজের আওতায় জাইকা ও জিওবির অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়াও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমশিন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিরও অর্থায়ন রয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী বাড্ডা, গুলশান, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা সেনানিবাস, মিরপুর, আজমপুর, কাফরুল, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান, উত্তরা ৩য় পর্ব, পূর্বাচল ও ঝিলমিল এলাকার নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (আরডিপিপি) ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, মহানগর, বনশ্রী, খিলগাঁও, মগবাজার, মালিবাগ, সিদ্বেশ্বরী, শান্তিনগর, ইস্কাটন, কলাবাগান ও হাতিরপুল এলাকা যোগ করা হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open