গোয়াইনঘাটে বিদ্যালয় স্থানান্তর নিয়ে মুখোমুখি দুপক্ষ

সুরমা টাইমস ডেস্ক:-গোয়াইনঘাটের ৮নং তোয়াকুল ইউনিয়নের পাইকরাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নিয়ে দুটি গ্র“পের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। কোমলমতি ৪৬৫ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত না করা এবং স্ব-স্থানে পাইকরাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকার অধিকাংশ মানুষ। সরজমিন জানা যায়, তোয়াকুল ইউনিয়নের পাইকরাজ গ্রামের জনসাধারণের সুবিধার্থে উক্ত বিদ্যালয়টি ১৯৪৭ সালে স্থাপিত হয়। উক্ত বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু থেকে অদ্যাবধি অগণিত মেধাবী শিক্ষার্থী শিক্ষা নিয়ে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক গন্ডি পেরিয়ে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও চাকরী করছেন। ২০০৬ সালে গ্রামের একটি মহল ১৫ শতক ভূমিতে স্থাপিত পাইকরাজ স্কুলটি জলমগ্ন থাকে এমন ভুল তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রদান করে যে কারনে ২২ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়। উক্ত প্রজ্ঞাপন জারীর ক্ষেত্রে যে ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন দেখানো হয় তাও ভুল বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী। প্রজ্ঞাপন জারীর পর ম্যানেজিং কমিটির নজরে আসে বিষয়টি। বিষয়টির প্রতিকারে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন মামলা করেন। মামলা নং- ৬৬৯৮/২০০৬। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষে মখলিছ উদ্দিন বাদী হয়ে উক্ত রীট পিটিশন মামলাটি দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নেন এবং স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে উক্ত মামলাটি তদবীরের অভাবে খারিজ হয়ে যায়। এর পর উক্ত খারিজাদেশের বিরুদ্ধে বাদী মখলিছ উদ্দিন সিভিল পিটিশন মামলা নং- ৩৩০৩/২০১৬ দায়ের করেন। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ডিসমিস করেন। শিক্ষা অধিদপ্তর হয়ে বিষয়টি গোয়াইনঘাট উপজেলা শিক্ষা কমিটিতে আসে। ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতিসহ সদস্যরা সরজমিনে উক্ত বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং শতভাগ নীতিমালা বহাল থাকায় স্ব-স্থানে পাইকরাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকার স্ব-পক্ষে মতামত প্রদান করেন এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে পরামর্শ দেওয়া হয়। উপজেলা শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তৎকালিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমদ উক্ত স্থানান্তরাদেশ বাতিলকল্পে রেজুলেশন কপিসহ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বরাবরে পত্র প্রেরণ করেন। যার প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলী ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অনুরূপ সুপারিশসহ মহা-পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পত্র প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর  হতে ২০১৫ সালের ১৬ মার্চ পাইকরাজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থানান্তরাদেশ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন যেহেতু মন্ত্রণালয় হইতে জারী করা হয়েছে সেহেতু মন্ত্রণালয় হতে উক্ত আদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য সচিব প্রাথমিক ও গণশিক্ষার মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করেন। শুধু এই চিঠি কিংবা পত্র চালাচালি নয়, বিদ্যালয়ের বিদ্যমান শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা,ব্যস্ততম সড়কের পাশে ঝুকিপূর্ণ কোন স্থানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রেরণ না করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ বিষয়টি জেনে পাইকরাজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বস্থানে বহাল থাকার স্বপক্ষে এবং স্থানান্তরাদেশ বাতিলে সচিব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবরে ডি.ও লেটারের মাধ্যমে অনুরোধ জানান।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে পাইকরাজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিলাল উদ্দিন জানান, পাইকরাজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৪৭সালে স্থাপিত পূর্ণ এবং ঐতিহ্যবাহী একটি বিদ্যাপিঠ। উক্ত বিদ্যালয়টি ভুয়া তথ্যাদি এবং জাল রেজুলেশনসহ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে গ্রামের কতিপয় স্বার্থান্বেসী মহল নীতিমালা বহির্ভূত স্থানে স্থানান্তরের জন্য পায়তারা করে আসছে। গ্রামের এবং বিদ্যালয় ক্যাচম্যান্ট এরিয়ার অধীবাসিদের সিংহ ভাগের মতামত উপেক্ষা করে প্রতারণার মাধ্যমে চক্রটি উক্ত বিদ্যালয়ের ভাবমুর্তি এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ বিনষ্টের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে আমরা আবারো আইনি উদ্যোগ নিচ্ছি। বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন জানান,প্রস্তাবিত স্থানান্তরিত এলাকাটি অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সিলেট,সালুটিকর,গোয়াইনঘাট সড়কঘেষা এবং সরকারের ভূমি অফিসে মাত্র ১৫শতক নামজারীভূক্ত ভূমিতে কতিপয় স্বার্থানেশি মহলের ইন্দনে বিদ্যালয় স্থানান্তরের ঘৃন্য রাজনীতি শুরু হয়েছে। এলাকার শিক্ষা সচেতনসহ সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে এ ব্যাপারে আন্দোলন সংগ্রামসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সক্রিয় রয়েছি।
বিদ্যালয়ের স্থানান্তরের পক্ষের প্রতিনিধি সাবেক মেম্বার ইরশাদ আলী জানান, বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের জন্য আমরা উদ্যোগী হয়েছি,বিষয়টির ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি ঘুরে গেছেন। তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিবেন।
গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহীম বলেন, পাইকরাজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থানান্তরে দুটি মহল পরস্পরের মুখামুখি রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও হয়। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি তদন্ত করে গেছেন বলে জেনেছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অচিরেই বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করবেন বলে আমি আশাবাদি।
এদিকে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় নাগরিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক জানান, পাইকরাজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে বিবাদমান দুই গ্র“পের সমস্যাটি সমাধানে একমাত্র কর্তৃপক্ষই ব্যবস্থা নিতে পারেন। উক্ত বিদ্যালয় স্বস্থানে বহাল রেখে নতুন স্থানে দাবিদারদের ভবনে অনুরূপ অন্য নামে আরেকটি বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হলেও বিষয়টি সমাধান করা যায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বায়েজিদ খান বলেন, বিষয়টির তদন্ত হয়েছে, অচিরেই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হবে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষা সচেতন সবাই পাইকরাজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল করে স্বস্থানে বহাল রাখতে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর কৃপাদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সুত্র :-শ্যামল সিলেট

Sharing is caring!

Loading...
Open