সিলেটে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে সমালোচনায় পুলিশ !

নিজস্ব প্রতিবেদক:: ডিআইজি মিজানুর রহমানের নারী আর ঘুষ কেলেঙ্কারি এবং নুসরাত ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিতর্কিত কমকান্ডে দেশজুড়েই চলছে সমালোচনা। এরমধ্যে শুক্রবার চট্টগ্রামে ১০ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশের এক এসআইকে আটক করা হয়। এসব নিয়ে সমালোচনায় মধ্যে সিলেটেও বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে পুলিশ।

শনিবার সিলেট নগরী ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের দুটি ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শনিবার সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লাশবাহী গাড়ি আটকিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। বিকেলে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে রিক্সা পার্কিং নিয়ে তর্কের জেরে এক যুবককে মারধরের পর তাঁর মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ দুই ঘটনার প্রতিবাদেই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোব্দ জনতা।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রিয় বাহিনী পুলিশের সদস্যরাই অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকজন যখন অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে তখন নিচের সারির কর্মকর্তারাও এতে উৎসাহিত হয়। সরকারও তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

তিনি বলেন, পুলিশকে দিয়ে এই সরকার অনেক অপকর্ম করিয়েছে। ফলে পুলিশের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না তারা। এজন্য আমরা দেখছি, পুলিশ সদস্যরা একের পর এক অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়লেও তাদের শাস্তির মুখোমুখি করা যাচ্ছে না। এতে এই বাহিনীর অন্য সদস্যরাও বেপোরোয়া হয়ে উঠছেন।

শনিবার বিকেলে নগরীর জিন্দাবাজারে এক পুলিশের বিতর্কিত কান্ডে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। মাছুম নামের ওই এটিএসআইকে শনিবারই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় জিন্দাবাজার পয়েন্টে রিক্সা পার্কিং নিয়ে। রিক্সা পার্কিং নিয়ে এসডি ইমন নামের যাত্রীকে গালি নিয়ে এটিএসআই মামুন। এ নিয়ে বাকবিতন্ডার জেরে ইমনকে পাশ্ববর্তী জগন্নাথ জিউড় মন্দিরের ভেতরে ঢুকিয়ে বেদড়ক মারধর করেন মামুনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য।

মারধরের পর মাসুম মানিব্যাগও ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা এসডি ইমন।

পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে ইমন তার তার আত্মীয় স্বজন ও পরিচিতদের খবর দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই একদল যুবক জিন্দাবাজার পয়েন্টে এসে সড়কের উপর অবস্থান নেন। তারা এটিএসআই মাছুম সহ সেখানে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে রাখেন। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেন, ‘জগন্নাথ জিউর আখড়ায় থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ওই যুবকের সাথে পুলিশ সদস্য মাসুমের দুর্ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে।’

এদিকে, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট থেকে শ্রীমঙ্গলগামী একটি লাশবাহী পিকআপভ্যানকে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বিলাসেরপাড় নামক স্থানে কাগজপত্র চেকিং করতে থামান হাইওয়ে পুলিশের সাতগাঁও ফাঁড়ির ইনচার্জ নান্নু মন্ডল।

শ্রমিকরা জানান, সেখানে ওই গাড়ির চালকের কাছ থেকে পুলিশ নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাঁদা দাবি করে এবং লাশবাহী গাড়িটি আটকে রাখে। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। পরে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালেকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাইওয়ে পুলিশ সাঁতগাও ফাঁড়ির ইনচার্জ নান্নু মন্ডল। আর শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালেক বলেছেন, শ্রমিকদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিবেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open